ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

ঠিকাদারদের অবহেলায় এক বছরেও শুরু হয়নি সড়ক নির্মাণ, এলাকাবাসীর দুর্ভোগ

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ১০:০৯ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের জমাদার বাজার থেকে হাজীপাড়া পর্যন্ত ৯৩০ মিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণকাজের টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার প্রায় এক বছর হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। কাজের প্রস্তুতির নামে সড়কের পুরোনো ইটের সলিং তুলে নেওয়ার পর সেটি দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও শ্রমজীবী মানুষের চলাচল চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির নির্মাণকাজের টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার পর ঠিকাদার পুরোনো ইটের সলিং তুলে নিলেও এরপর আর কোনো কাজ শুরু করেননি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কাদাময় ও চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

এলাকাবাসী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও বহুবার এই সড়কটি পাকা করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করা হলেও কোনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি। সরকার পরিবর্তনের পর অবশেষে সড়কটির উন্নয়নের অনুমোদন ও বরাদ্দ আসায় মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু কাজ শুরু না হওয়ায় সেই আশা আজ হতাশায় পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদা ও জলাবদ্ধতায় নরককুণ্ডের রূপ নেয়। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত, এমনকি দিনমজুর ও ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন চলাচলও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, জনগণের করের টাকায় বাস্তবায়ন হওয়া একটি উন্নয়ন প্রকল্প কীভাবে প্রায় দুই বছর ধরে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারে? ঠিকাদারের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও গাফিলতির দায় কে নেবে? উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্দেশ্য জনগণের দুর্ভোগ কমানো, কিন্তু এখানে উল্টো ভোগান্তিই বেড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই দুর্ভোগের দ্রুত অবসান ঘটাতে সোনাগাজী উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ এবং দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা অবিলম্বে সড়কটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে দ্রুত সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী জয় সেন বলেন, আমি কিছুদিন আগে এই উপজেলায় যোগদান করেছি। সড়কের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। আমি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।