× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

কাপাসিয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের মহড়া, আটক ২

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

আটককৃত ব্যক্তিরা।  ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

আটককৃত ব্যক্তিরা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

গাজীপুরে দেশীয় অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে বাজারজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে শক্ত অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করায় স্থানীয়দের প্রতিরোধে কিশোর গ্যাংয়ের দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এসময় আরও ১২ জন পালিয়েছে বলে আটকরা জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে দশটার দিকে কাপাসিয়া উপজেলার বীরউজলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়রা কাপাসিয়া সেনা ক্যাম্পে খবর দেন। পরে সেনা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং আটক দুইজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ২টার দিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘র-গ্যাং (১৮০ ডিগ্রি)’ নামে একটি কিশোর গ্যাং বীরউজলী বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল শোডাউন দেয়। তাদের হাতে ছিল লাঠি ও ধারালো চাপাতি। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া করলে দুই সদস্য মো. আকিব সিকদার ও মো. সিয়াম হাসান রনি দু’টি মোটরসাইকেলসহ ধরা পড়ে। তাদের কাছ থেকে চারটি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়। তবে মূল নেতৃত্বসহ আরও ১২ জন চাপাতি নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে তারা জানিয়েছে।

আটককৃতরা হলেন- আমরাইদ এলাকার মো. আকবর সিকদারের ছেলে মো. আকিব সিকদার এবং মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. সিয়াম হাসান রনি।

আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। তাদের দাবি, বাড়িষাব এলাকার মাহিদ শেখ ‘র-গ্যাং (১৮০ ডিগ্রি)’ পরিচালনা করেন। তার নেতৃত্বেই সেদিনের মহড়া হয়। এছাড়া গত তিন দিন ধরে তারা বাজার এলাকার বাদল মিয়ার ছেলে তানজিলকে মারার উদ্দেশ্যে এলাকায় অবস্থান ও মহড়া দিয়ে আসছিল বলে স্বীকার করেছে।

আটকরা আরও জানিয়েছে, বীরউজলী বাজারে ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আব্দুল গফুরের নাতি কাওছারের নেতৃত্বে তারা তানজিলকে মারার জন্য এসেছিল এবং অশ্রু হাতে মহড়া দেয়। কাওছারকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এছাড়া এলাকায় ‘পুষি গ্রুপ’, ‘ডেঞ্জার গ্রুপ’ ও ‘ডেঞ্জার নোমান’ নামে আরও কয়েকটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে বলেও তথ্য দেওয়া হয়েছে। একাধিক গ্যাংয়ের অস্তিত্বের অভিযোগ নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর তদন্ত) মো. জুবায়ের বলেন, ‘আটক দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় আইন শৃঙ্খলা অবনতি সংক্রান্ত কোনো ধরনের অপরাধ বরদাস্ত করা হবে না।’

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে কিশোরদের মহড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অশনিসংকেত। তাদের দাবি, দ্রুত মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

ঘটনার পর বীরউজলী বাজারে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কিশোরদের হাতে অস্ত্র কীভাবে এসেছে এবং তারা কার ছত্রছায়ায় এ ধরনের দুঃসাহস দেখাচ্ছে? তদন্তের ফলই এখন সেই প্রশ্নের জবাব দেবে বলে তারা আশাবাদী।

Link copied!