ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ত্রিপলের নিচে ঝুঁকির ঈদযাত্রা, লাগছে অতিরিক্ত ভাড়াও

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৬, ১০:১৫ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

শিল্পাঞ্চল টঙ্গী এখন যেন এক বিশাল যাত্রীস্রোতের মিলনস্থল। রাত যত গভীর হচ্ছে, ততই বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের চাপ। সামনে ঈদুল ফিতর—এই এক টানেই মানুষ সব কষ্ট ভুলে পথে নামছে। তবে বাস্তবতা বলছে, বাড়ি ফেরার এই যাত্রা সহজ নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রেই তা হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক-এর টঙ্গী অংশজুড়ে দেখা গেছে পরিবহন সংকটের তীব্র চিত্র। বাসের অপেক্ষায় দীর্ঘ লাইন, কিন্তু মিলছে না কাঙ্ক্ষিত যানবাহন। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন ট্রাক, যেখানে নেই কোনো নিরাপত্তা বা স্বাভাবিক বসার ব্যবস্থা।

স্বাভাবিক সময়ে টঙ্গী থেকে ময়মনসিংহ রুটে বাস ভাড়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে থাকলেও এখন বাস না পেয়ে যাত্রীরা একই ভাড়ায় ট্রাকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অর্থাৎ ঝুঁকি বাড়লেও খরচ কমেনি, বরং বেড়েছে ভোগান্তি।

দূরপাল্লার যাত্রীরা পড়েছেন আরও বেশি চাপে। উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা যেতে যেখানে সাধারণত ৬০০–৭০০ টাকা ভাড়া লাগে, সেখানে এখন ট্রাকে করেই নেওয়া হচ্ছে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। অনেক যাত্রীর অভিযোগ, পরিবহন সংকটকে পুঁজি করে প্রকাশ্যেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে দেখা যায়, ট্রাকের বডিতে ত্রিপল টানিয়ে অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে যাত্রী তোলা হচ্ছে। গাদাগাদি করে বসে আছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধ—সবার লক্ষ্য একটাই, যেভাবেই হোক বাড়ি পৌঁছানো। বৃষ্টি শুরু হলে এই দুর্ভোগ আরও বাড়ে; ত্রিপলের নিচে থাকলেও পানি ঢুকে ভিজে যাচ্ছে কাপড় ও লাগেজ, তবুও থামছে না যাত্রা।

একাধিক যাত্রী জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ট্রাকে উঠতে হয়েছে। ঝুঁকি জেনেও উপায় নেই, সময়মতো বাড়ি পৌঁছাতে না পারলে ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে যাবে।

অন্যদিকে সড়কে শৃঙ্খলার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলা, অতিরিক্ত চাপ এবং বৃষ্টির কারণে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। ফলে স্বল্প দূরত্ব পার হতেও সময় লাগছে কয়েক ঘণ্টা।

সবচেয়ে বেশি সমালোচনা উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। যাত্রীরা বলছেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন চলাচল চোখের সামনে ঘটলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। এতে অসাধু চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

সব মিলিয়ে, ঘরে ফেরার এই যাত্রা এখন শুধু পথচলা নয়, এ যেন এক ধরনের সংগ্রাম। যেখানে নিরাপত্তা, স্বস্তি ও ন্যায্য ভাড়া—সবকিছুই পিছিয়ে পড়েছে ঈদের আনন্দের কাছে। তবুও মানুষ থেমে নেই, কারণ শেষ পর্যন্ত গন্তব্য একটাই—নিজের বাড়ি, নিজের মানুষ।