× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

স্বস্তিতে ঈদ কাটল গাজীপুরবাসীর

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর-কে ঘিরে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল গাজীপুর-এ এবার যেন রচিত হয়েছে এক নতুন দৃষ্টান্ত। যেখানে প্রতি বছর ঈদের আগে তৈরি পোশাক খাতে বেতন-ভাতা ও বোনাসকে কেন্দ্র করে শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ, এমনকি সড়ক অবরোধের ঘটনাও ছিল নিয়মিত চিত্র, সেখানে চলতি বছর সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা। ছিল শান্ত, স্বস্তিময় এবং উৎসবমুখর শিল্পাঞ্চল।

শুধু শ্রমিক অসন্তোষই নয়, এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে কোথাও ছিনতাই বা বড় ধরনের অপরাধের ঘটনাও ঘটেনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে গাজীপুরজুড়ে বিরাজ করেছে নিরাপত্তা ও স্বস্তির এক অনন্য পরিবেশ, যা অতীতের তুলনায় একেবারেই ব্যতিক্রমী।

শিল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এবছর প্রায় সব তৈরি পোশাক কারখানায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের বেতন, বকেয়া এবং ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে কোনো অনিশ্চয়তা বা চাপ তৈরি হয়নি; বরং সময়মতো পাওনা বুঝে পাওয়ায় তারা নির্বিঘ্নে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরেছেন।

সরেজমিনে কোনাবাড়ী, টঙ্গী, শ্রীপুর ও কালিয়াকৈরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমিকদের মধ্যে ছিলনা কোনো ক্ষোভ বা উত্তেজনা। বরং ছিল বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ ভিড়। অনেক শ্রমিকই জানান, এবার কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়াই ঈদ করতে পারছি,এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর সদস্য সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করতে মালিকদের প্রতি বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সরকার ও ব্যাংকগুলোর সহযোগিতাও ছিল উল্লেখযোগ্য। ফলে কারখানাগুলো সময়মতো শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, এবার পুরো সময় জুড়ে শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। কোথাও কোনো শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর ছিল, যা এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এবার একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ঈদযাত্রায় কোথাও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটেনি,এটি আমাদের জন্য বড় অর্জন।

তিনি আরও জানান, ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে এমন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ কেবল একটি ইতিবাচক ঘটনাই নয়, বরং শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের উন্নতির এক বাস্তব প্রতিফলন। সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ, প্রশাসনের কার্যকর তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি। সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগই এ সফলতার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প আরও স্থিতিশীল, বিনিয়োগবান্ধব এবং প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আস্থা ও সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক উৎপাদনশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের ঈদে গাজীপুর শুধু স্বস্তির নিঃশ্বাসই ফেলেনি, বরং একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে,যেখানে উৎসব মানেই আনন্দ, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নয় কোনো অস্থিরতা বা অনিশ্চয়তা।

Link copied!