× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

কালবৈশাখির তাণ্ডবে ধ্বংসস্তূপ শ্রীপুর

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

গাজীপুরের শ্রীপুরে কাওরাইত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে আঘাত হেনেছে কালবৈশাখি ঝড়। কালবৈশাখি ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিও হয়। এতে মুহূর্তেই বদলে গেছে জনপদের চেহারা। সবুজে মোড়া ফসলের মাঠ এখন পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। প্রায় এক হাজার কৃষকের ৩০০ হেক্টর জমির বোরোধান সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন ভেঙে পড়েছে চোখের সামনে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকে সরেজমিনে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা, বেইলদিয়া ও নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, শুধু ক্ষতির চিহ্ন। বোরোধানের বিস্তীর্ণ খেতজুড়ে একটি ধানগাছও আর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নেই। ঝড়ে ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে সব। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির আঘাতে ধানের শিষ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।

শুধু ফসল নয়, ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতবাড়িরও। বহু ঘরের চাল উড়ে গেছে, টিনের ছাউনি ছিদ্র হয়ে পড়েছে। গাছ উপড়ে পড়ে অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঝড়ের সময় আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েন তারা। এতে কয়েকজন আহতও হয়েছেন।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক চিত্র দেখা গেছে সুমিতা রানী নামের এক বিধবা নারীর বাড়িতে। কালবৈশাখির তাণ্ডবে শতবর্ষী একটি বটগাছ ভেঙে তার ঘরের ওপর পড়ে পুরো বসতঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন তিনি খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। চোখে তার অনিশ্চয়তার ছাপ, কণ্ঠে অসহায়তার আর্তি।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, তিনটি গ্রামের এমন কোনো কৃষক নেই, যিনি ক্ষতিগ্রস্ত হননি। ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি যে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সকাল থেকে শত শত বিঘা জমি ঘুরে দেখেছি, সব জায়গাতেই একই চিত্র।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ জানান, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য ঢেউটিনসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকৃতির এই আকস্মিক আঘাতে শ্রীপুরের কৃষকসমাজ এখন দিশাহারা। মাঠের ফসলের সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে গেছে তাদের স্বপ্নও। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত সরকারি সহায়তা আর নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ।

Link copied!