ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শ্রীপুরে মারধরের পর হাসপাতালে যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে লোহার রড দিয়ে মারধরের ঘটনায় আজিজুল ইসলাম (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে মঙ্গলবার ভোররাত ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আজিজুল ইসলাম পাইটালবাড়ি গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে আজিজুল ইসলাম ও তার ছোট ভাই ফাইজুল ইসলামের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছিল। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়। তবে এ ঘটনার জেরে পূর্ব বিরোধের সুযোগ নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি আজিজুল ইসলামের ওপর হামলা চালান বলে পরিবারের অভিযোগ।

নিহতের ছোট ভাই তাইজুল ইসলাম বলেন, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় শামীম, জামাল উদ্দিন, হৃদয়, শাহীনসহ কয়েকজন আজিজুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তাইজুল ইসলামের অভিযোগ, হামলার সময় বাধা দিতে গেলে তার মা, ছোট ভাই ও বোনকেও মারধর করা হয়। এ সময় তাদের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই তাইজুল ইসলাম বাদী হয়ে একই গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে শামীম (৩৪), ইছব আলীর ছেলে ফকির (৪২), জামাল উদ্দিন (৫৬), হৃদয় (২৮), শাহীন (৩৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্চয় সাহা বলেন, মারধরের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় মামলায় হত্যার ধারা সংযোজনের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধান আসামি শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

তিনি আরও জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।