গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সোনারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এড়িয়ে যাওয়া, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ভিডিও দেখার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন অভিভাবক।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে মঙ্গলবার সকালে তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিদ্যালয়ে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।
জানা গেছে, গত ২৫ জুন ২০২৫ তারিখে সোনারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবকের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা, ক্লাসে অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে কাপাসিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. লুৎফুন নেছার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মনিরা খাতুন ও আরিফুল ইসলাম।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন। অনেক সময় তিনি নিয়মিতভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না। এমনকি প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়াই ছুটি কাটানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষার্থীরা তাকে সালাম দিলে তিনি অনেক সময় তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং বকাঝকা করে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেন। শিক্ষার্থীদের মারধর ও অশালীন ভাষায় কথা বলার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে বসে মোবাইল ফোনে উচ্চ শব্দে আপত্তিকর ভিডিও দেখার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের আচরণ ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে কেউ কথা বললে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।
লিখিত অভিযোগে শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব মামলার প্রকৃতি ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কর্মকর্তা ও কাপাসিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. লুৎফুন নেছা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত।’

