বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, দেশে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী ও দক্ষিণপন্থী শক্তির উত্থান ক্রমেই ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমরেড মণি সিংহের আদর্শ অনুসরণ করে গণমানুষের মুক্তির আন্দোলন জোরদার করতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর পোস্তগোলায় কমরেড মণি সিংহের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সিপিবির সূত্রাপুর থানা কমিটি আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সূত্রাপুর থানা কমিটির সভাপতি বিকাশ সাহার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বী খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা ও শ্রমিকনেতা আসলাম খান, সাবেক ছাত্রনেতা সামসুল আলম, সূত্রাপুর থানা কমিটির সরকারি সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীল।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দেশে বর্তমানে বহুমাত্রিক সংকট চলছে। অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে, একের পর এক জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে এবং বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের পরামর্শে রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ বেকার ও দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী ও দক্ষিণপন্থী শক্তির উত্থান উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, অথচ সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নাজুক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিপিবির এই নেতা বলেন, সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ, মৌলবাদ এবং লুটপাটনির্ভর রাজনীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমেই প্রকৃত স্বাধীনতা ও মানবমুক্তির সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এ লক্ষ্যে বামপন্থী শক্তিগুলোকে সম্মিলিতভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বিকাশ সাহা বলেন, কমরেড মণি সিংহ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে কৃষক-শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, তেভাগা ও টঙ্ক আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘ কারাবাস, আপসহীন রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং সংগঠন গড়ে তোলার দক্ষতার কারণে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, কমরেড মণি সিংহ বিশ্বাস করতেন, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উন্নত সমাজ গড়ে উঠতে পারে না। ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বে কমিউনিস্টদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের সময় ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কমরেড মণি সিংহের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গেন্ডারিয়া শাখা, দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)সহ বিভিন্ন সংগঠন।
পরে সমবেত কণ্ঠে 'কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল' সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে স্মরণসভার সমাপ্তি হয়।

