আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ-১ আসনে নানা আলোচনা সৃষ্টি করেছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম।
ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা এই নেতা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। রাজনীতির প্রতি তার অঙ্গীকার ও পারিবারিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার তাকে গোপালগঞ্জের মানুষের কাছে ইতোমধ্যেই পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য মুখে পরিণত করেছে।
তিনি বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে চাই। তাই এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করছি।’ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন না হওয়ায় মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু এখন মানুষ পরিবর্তন চায়, গণতন্ত্র চায়। তারা এমন নেতা চায়, যিনি ভোটের পরও পাশে থাকবেন। আমরা একটি গণতান্ত্রিক সরকার চাই। গোপালগঞ্জের মানুষ যেন এমন প্রার্থীকে বেছে নেয়, যিনি সত্যিকার অর্থে জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন।’
গোপালগঞ্জের বর্তমান রাজনীতি প্রসঙ্গে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সেলিমুজ্জামান সেলিম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গোপালগঞ্জে এখনো আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে রাজনীতি করছেন, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে দেখা যায় না।
তার অভিযোগ, গোপালগঞ্জ জেলা তাঁতি লীগের সভাপতি মো. কাবির মিয়া এবং মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আশরাফুল আলম শিমুল—এই দুইজন আওয়ামী লীগ নেতা প্রশাসনিক সহায়তায় মাঠে সক্রিয় আছেন। তারা টাকার প্রভাব খাটিয়ে ভোটের পরিবেশকে বিকৃত করছেন। এটি শুধু দুঃখজনক নয়, গণতন্ত্রের জন্যও লজ্জাজনক।
সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘সরকার একদিকে ঘোষণা দিয়েছে যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, অন্যদিকে তাদের নেতাদের নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় রাখছে। এটি স্পষ্টভাবে দ্বিমুখী আচরণ, যা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাবির ও শিমুল—দুজনই আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। অতীতে তারা তথাকথিত নির্বাচনে ডামি প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগকে বৈধতা দিয়েছেন। এখনো প্রশাসনের ছত্রছায়ায় তাদের কার্যক্রম চলমান। গোপালগঞ্জ সম্ভবত একমাত্র জেলা, যেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতারা প্রকাশ্যে রাজনীতি করছেন। বিষয়টি সত্যিই বিস্ময়কর।’
সেলিমুজ্জামান সেলিম দাবি করেন, ‘গোপালগঞ্জ প্রশাসনের প্রভাবেই এই নেতাদের রাজনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আওয়ামী লীগের দোসরদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তা মীমাংসা করেন। এতে মূলত আওয়ামী লীগকেই পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে।’
সরকার ও প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘এটি অগ্রহণযোগ্য যে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের দুইজন নেতা প্রকাশ্যে রাজনীতি করছেন, এমনকি দুজনই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে অবৈধভাবে টাকা ছড়ানো হচ্ছে। এতে ভোটের পরিবেশ কলুষিত হচ্ছে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি সত্যিই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়, তাহলে কিভাবে কাবির ও শিমুল দুজনেই সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হন? আমরা চাই তাদের যেন নির্বাচনের মাঠে থাকার সুযোগ না দেওয়া হয়। সরকার একদিকে নিষেধাজ্ঞার কথা বলবে। অন্যদিকে, একই দলের নেতাকর্মীদের সুযোগ দেবে, এটি জনগণ মেনে নেবে না। গোপালগঞ্জের মানুষ এই দ্বিমুখী আচরণের জবাব দেবে।’
গোপালগঞ্জ নিয়ে বিভিন্ন ভাবনা এবং আগামী নির্বাচন ঘিরে মানুষের ব্যাপক উৎসাহের বিষয়েও কথা বলেন সেলিমুজ্জামান সেলিম।
তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, ‘দীর্ঘদিন সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ায় তরুণদের মধ্যে রাজনীতির প্রতি আস্থা কমে গেছে। তাদের শিক্ষার সুযোগ, খেলাধুলা ও ইতিবাচক চিন্তার মাধ্যমে আবার রাজনীতিমুখী করতে হবে। আমি চাই তরুণরা যেন রাজনীতিতে অংশ নেয় এবং দেশকে ভালোবাসে।’




