গোপালগঞ্জে রাতের আঁধারে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার রাতে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বালিয়াকান্দি বাজার এলাকা থেকে জলিরপাড় ব্রিজ পর্যন্ত এবং গোপালগঞ্জ-১ আসনের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দুই পাশে ও নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে টাঙানো ফুটবল প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশ্রাফুল আলম শিমুলের ছোট ভাই মো. তরিকুল ইসলাম সজল মঙ্গলবার দুপুরে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আশ্রাফুল আলম শিমুল মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র ছিলেন। তিনি সামাজিকভাবে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। বর্তমানে তিনি একটি রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। সংসদ নির্বাচনে তিনি ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে বাঁশের চাটিতে টাঙানো ব্যানার ও ফেস্টুন পরিকল্পিতভাবে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে প্রচারের মাইক বাজাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে মো. তরিকুল ইসলাম সজল বলেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা আমাদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই অপকর্ম করেছে। এসব বাধা আমাদের বিজয় ঠেকাতে পারবে না।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহামুদ আশিক কবির বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীকে বিষয়টি দায়িত্বরত নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কর্মকর্তা এবং সিনিয়র সিভিল জজের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি তিনি অবগত আছেন।
দায়িত্বরত নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কর্মকর্তা এবং সিনিয়র সিভিল জজ মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষ্যগ্রহণ, জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


