চারপাশে শস্যখেত, মাঝখানে একটি ভবন এভাবেই দাঁড়িয়ে আছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের চর ধারাবর্ষা কমিউনিটি ক্লিনিক। তবে সেখানে পৌঁছানোর কোনো রাস্তা না থাকায় প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পরও ক্লিনিকটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পাকা সড়ক থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে নিচু আবাদি জমির মাঝখানে নির্মিত ক্লিনিকটিতে যেতে হয় অন্যের ফসলের আইল ধরে। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষা ও বন্যায় ক্লিনিকে পৌঁছাতে রোগীদের নৌকা কিংবা কলাগাছের ভেলা ভাসিয়ে যেতে হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৩ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্লিনিকটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা হাসমত আলী ৮ শতক জমি দান করেন। ২০১৫ সালের জুন মাসে ক্লিনিকটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। তবে কমিউনিটি ক্লিনিকটি রাস্তা থেকে অনেকটা ভেতরে হওয়ায় আজও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।
ধারাবর্ষা গ্রামের বৃদ্ধ আসলাম শেখ বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসতে ফসলের আইল দিয়ে হাঁটতে হয়। এতে ফসল নষ্ট হলে জমির মালিক গালাগাল করেন। আবার ক্লিনিকের উঁচু সিঁড়ি বেয়ে উঠতেও কষ্ট হয়।
গ্রামের বাসিন্দা ফারুক হোসেন ও শাহানা বেগম বলেন, সরকার আমাদের জন্য হাসপাতাল বানিয়েছে, কিন্তু সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। বাধ্য হয়ে অন্যের জমির আইল ধরে যেতে হয়। এতে ফসল নষ্ট হয়, ঝগড়াঝাঁটি হয়। আমরা দ্রুত একটি রাস্তা চাই।
চর ধারাবর্ষা কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডর (সিএইচসিপি) আছমাউল হোসনা বলেন, রাস্তা না থাকায় প্রতিদিন কাদা-মাটি পেরিয়ে ক্লিনিকে আসতে হয়। অনেক রোগী একবার এসে আর আসে না। জমির মালিকদের সঙ্গে চলাচল নিয়ে প্রায়ই ঝামেলা হয়। এখানে একটি রাস্তা নির্মাণ এখন অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, ক্লিনিকের জমিদাতা রাস্তা থেকে দূরে জমি দান করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চর ধারাবর্ষা কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পার হলেও যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ভোগান্তি থেকে মুক্তির আশায় দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।


