জামালপুরের সরিষাবাড়ীর পার্শ্ববর্তী কাজিপুর উপজেলার মুনছুরনগর এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জ আমলী আদালতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী লাল চান ওরফে লালু মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কাজিপুর উপজেলার মনছুরনগর ইউনিয়নের পূর্ব মাজনাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা নেদু ভূঁইয়ার ছেলে লালু মিয়ার সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও ব্যবসায়িক বিরোধ চলছিল। এরই জেরে পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মৃত দানেছ মণ্ডলের ছেলে আফছার আলীকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বুধবার রাতে অভিযুক্তরা লোহার রড, কাঠের বাটাম ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লালু মিয়ার মুদি দোকানে হামলা চালায়। তারা দোকান ভাঙচুর করে প্রায় ৪ লাখ ২৯ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নেয়। একই সঙ্গে দোকান চালাতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ছাড়া হামলাকারীরা তার বসতবাড়িতেও হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে দরজা-জানালা ভাঙচুর করে ঘরে থাকা নগদ প্রায় ১৫ লাখ টাকা এবং প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার (চেইন ও কানের দুল) লুট করে নেয়। পাশাপাশি পানির মোটর পাম্পসহ অন্যান্য সামগ্রী ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়।
ভুক্তভোগী লালু মিয়ার দাবি, সংঘবদ্ধ একটি চক্র চাঁদার দাবিতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ীতে হামলা চালিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।
তবে প্রধান অভিযুক্ত আফছার আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লালু মিয়া অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন। এতে এলাকাবাসী বাধা দিলে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য মোতাহার হোসেন বলেন, ‘দলীয় নাম ব্যবহার করে একটি চক্র চাঁদা না পেয়ে এ হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। আমি নিজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা শোনেনি।’ তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে, ভুক্তভোগী দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


