ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

২২ দিন পর নিখোঁজ পুলিশ সদস্যের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ০৮:৪৯ এএম
নিহত পুলিশ সদস্য আক্তারুজ্জামান। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

যশোরের চৌগাছায় আক্তারুজ্জামান (৪৬) নামে এক পুলিশ সদস্য ২২ দিন নিখোঁজ থাকার পর পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৬ নম্বর সাতমোড়া ইউনিয়নের নয়মাইল এলাকার পাশে একটি আখক্ষেত থেকে তাঁর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) মরদেহটি উদ্ধার করা হলেও পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর)।

পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে) পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানান নিহতের স্ত্রীর ভাই মামুনুর রশীদ মামুন।

মোবাইল ফোনে তিনি জানান, পরনের প্যান্ট, শার্ট ও জুতা দেখে তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন, মরদেহটি তাঁর বোনের স্বামীর।

মরদেহ উদ্ধারের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছেন। তারা থানায় পৌঁছালে মরদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হবে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সূত্রে আরও জানা যায়, মরদেহটি থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

তবে মরদেহটির কোনো পরিচয় না থাকায় শনাক্তের চেষ্টা চালান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ক্লু-লেস এই মরদেহের পরিচয় শনাক্তে একমাত্র সূত্র ছিল উদ্ধারকৃত আন্ডারওয়্যার, যা পুলিশের লোগোসংবলিত ছিল।

পরে বিষয়টি এক পুলিশ কর্মকর্তার নজরে এলে নিহতের পরনের প্যান্ট, শার্ট ও জুতার ছবি স্ত্রীকে দেখানো হলে তিনি সেগুলো তার স্বামীর বলে শনাক্ত করেন।

এর আগে নিহত পুলিশ সদস্যের স্ত্রী শাহিনা আক্তার শিমা গত ৩০ নভেম্বর চৌগাছা থানায় নিখোঁজ-সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজ আক্তারুজ্জামান সিংহঝুলি ইউনিয়নের জামলতা গ্রামের মৃত আনিছুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি খুলনা রেঞ্জের বাগেরহাট জেলার রামপাল থানায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর বিপি নম্বর ৮৪০৩০২৪৬৪৪।

জিডি ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী-সন্তানসহ তিনি চৌগাছা শহরের ইছাপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করতেন।

জিডিতে তার স্ত্রী উল্লেখ করেন, ২৬ নভেম্বর পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে তিনি বাড়িতে আসেন। পরদিন ২৭ নভেম্বর সকালে মহেশপুর যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। এর পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, তিন দিন ধরে কোথাও স্বামীর সন্ধান না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেছি। আক্তারুজ্জামান তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন বাসায় রেখে গিয়েছিলেন। ফলে কোনোভাবেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

চৌগাছা থানার ওসি রেজাউল করিম লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।