যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসার জন্য সরবরাহকৃত দামি ইনজেকশন গরিব রোগীরা পাচ্ছেন না। ফলে অনেক রোগীর স্বজনকে এগুলো নিজ খরচে কিনতে হচ্ছে। যারা ইনজেকশন কিনতে পারছেন না, তাদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে না।
ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবিকাদের অনিয়মের কারণে সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও বিনা মূল্যের অনেক ইনজেকশন রোগীরা পাচ্ছেন না। নানা অজুহাতে কতিপয় ওয়ার্ড ইনচার্জ দামি ইনজেকশন গায়েব করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, যশোরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলা ও উপজেলার রোগীদের আশা-ভরসার কেন্দ্র হলো যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল। সরকারি এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি হন। বহির্বিভাগে গড়ে ৯০০ থেকে ১ হাজার রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
স্বনামধন্য এই হাসপাতাল হওয়ায় যশোরসহ নড়াইল, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও মাগুরার গরিব মানুষরা চিকিৎসা নিতে এখানে আসেন। উদ্দেশ্য একটাই; কম খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া।
গরিবদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে এই হাসপাতালে ৮৪ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে ৪৪ ধরনের ইডিসিএল এবং বাকি ৪০ ধরনের ওষুধ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় অর্থায়নে ক্রয় করা হয়। তবে অনেক বিনা মূল্যের ইনজেকশন রোগীরা পাচ্ছেন না।
ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার জন্য অধিকাংশ ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে সেবিকাদের দেওয়া স্লিপের মাধ্যমে। মেরোপেনাম ১ গ্রাম, সেফুরক্সিম ৭৫০ এমজি, সেফট্রিঅ্যাকসন ১ গ্রাম, ওমেপ্রাজল ও নক্সারিনের মতো ইনজেকশন রোগীর স্বজনকে কিনে আনতে হয়। তবে প্রভাবশালী ব্যক্তির রোগী ভর্তি হলে পরিস্থিতি ভিন্ন।
দিনমজুর আবু হানিফ বলেন, মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে আমার রোগীর জন্য চিকিৎসক প্রতিদিন দুটি করে মেরোপেনাম ইনজেকশন লিখেন। প্রতিটির মূল্য সাড়ে ১৩০০ টাকা। দামি ইনজেকশন কিনতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হয়।
পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজন আতিয়ার রহমান ও মিয়ারাজ হোসেনসহ অনেকেই জানান, রোগীর ভর্তির পর বিনা মূল্যের ইনজেকশন দেওয়া হয়নি। সেবিকারা স্লিপ দেওয়ার পর সেফুরক্সিম ৭৫০ এমজি, সেফট্রিঅ্যাকসন ১ গ্রাম ও ওমিপ্রাজল ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে।
আরেক রোগীর স্বজন পারভীন আক্তার জানান, তার রোগীর জন্য প্রতিদিন দুটি করে সেফট্রিঅ্যাকসন ও ওমিপ্রাজল ইনজেকশন কিনতে হচ্ছে। বিনা মূল্যে ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে না।
মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজন আনিকা ইসলাম জানান, তার মায়ের জন্য অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। দামি ইনজেকশন ছাড়াও গ্যাসের ইনজেকশন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
রোগীর স্বজনরা জানান, ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবিকারা স্লিপ দেওয়ার সময় বলেন, বিনা মূল্যের সেফুরক্সিম ৭৫০ এমজি, সেফট্রিঅ্যাকসন ১ গ্রাম ও গ্যাসের ইনজেকশন শেষ হয়ে গেছে। সব রোগীকে দেওয়া সম্ভব নয়।
সরবরাহ রোগীর তুলনায় কম হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ না করে দায় এড়ানো হয়। ফলে অধিকাংশ রোগীকে বাইরে থেকে ইনজেকশন কিনতে হচ্ছে।
জীবন রক্ষাকারী এই দামি ইনজেকশন বিনা মূল্যে না পাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। বাইরে থেকে কেনার সামর্থ না থাকায় অনেকে হাফিয়ে উঠছেন। ওয়ার্ড ইনচার্জ ও দায়িত্বরত সেবিকাদের কারণে মানুষ সরকারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
করোনারি কেয়ার ইউনিটে রোগীর স্বজন ওয়াহিদুজ্জামান মিলন জানান, তার রোগীর চিকিৎসার জন্য বিনা মূল্যে নাভির ইনজেকশন ওয়ার্ড থেকে দেওয়া হয়নি। ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, ওষুধের তেমন সংকট নেই। তবে সরবরাহ না থাকলে সেটা আলাদা বিষয়। রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। যারা পাচ্ছেন না, কেন তা খুঁজে দেখা হবে।



