× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৬:৫৬ পিএম

২ কারণে বেনাপোল দিয়ে যাত্রী পারাপার কমেছে

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৬:৫৬ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ভারত ভ্রমণে ভিসা জটিলতা ও হাইকমিশন অফিস বন্ধ থাকায় বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত প্রায় ৮৫ শতাংশ কমে গেছে। গত তিন দিনে মাত্র ৫,৩৯২ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াত করেছেন, যা আগের তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ কম।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ভিসা অফিস নানা কারণে বন্ধ থাকায় ভিসা প্রক্রিয়া জটিল হয়ে গেছে। ভারত সরকার নতুন নিয়ম অনুযায়ী অনলাইন ‘আগমন ফর্ম’ বাধ্যতামূলক করেছে। যাত্রীদের ৭২ ঘণ্টা আগে ফর্মটি পূরণ করে প্রিন্ট করা কপি সঙ্গে রাখতে হবে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, ওয়েবসাইটের সার্ভার সচল না থাকার কারণে আবেদন করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর আগে যাত্রীদের ভারতের ইমিগ্রেশন দপ্তরে ফর্ম হাতে লিখে জমা দিতে হতো।

ভিসা ফি ও খরচও দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে একজন যাত্রীকে ভারতীয় দূতাবাসে ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় ১,৫০০ টাকা ভিসা ফি এবং ভিসা পাওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের ১,০৫৭ টাকা ভ্রমণ ফি ও পোর্ট চার্জ দিতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসা, ব্যবসা বা শিক্ষার উদ্দেশ্যে যাতায়াতকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এ ছাড়া, হাইকমিশনে পাসপোর্ট জমা দিলে ৯৫ শতাংশ যাত্রীকে ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে প্রতি যাত্রীর ১,৫০০ টাকা নষ্ট হচ্ছে। এইভাবে ভিসা না দিয়ে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ভারতীয় ভিসা অফিস।

গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ভিসা জটিলতার কারণে ভ্রমণ কমছে। ভারত সরকার রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ট্যুরিস্ট, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা বন্ধ রেখেছে। শুধু মেডিকেল ভিসা চালু থাকলেও শর্তসাপেক্ষে মাত্র ৫ শতাংশ রুগিকে ভিসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় ভিসা না পেয়ে যাত্রীরা দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে ১২–১৫ হাজার টাকা খরচ হয়।

যে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেখিয়ে ভিসা নেওয়া হয়েছে, সেই ডাক্তারকেই ভ্রমণকারীদের দেখাতে হবে। শর্ত লঙ্ঘন করলে ফেরার পথে ভারতীয় ইমিগ্রেশন যাত্রীদের আটকে রাখে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে ২-৩ জনকে যাওয়ার অনুমতি দিলেও অধিকাংশের পাসপোর্টে ‘রিফিউজ’ সিল মেরে দেওয়া হয়।

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আগে প্রতিদিন ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার জন পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করলেও এখন তা প্রায় ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ভারতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ফরিদপুরের শ্যামল কুমার বলেন, ‘তিনবার ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দিলেও ভিসা পাইনি। চতুর্থবার দালালের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকায় ভিসা পেয়েছি। এ  ছাড়া ১৫০০ টাকা ভিসা ফি এবং ১০৬০ টাকা ভ্রমণ ফি দিতে হয়েছে। এত খরচের পর ডাক্তার দেখানোর টাকাও হাতে থাকছে না।’

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি এস.এম. শাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘গত তিন দিনে মোট ৫,৩৯২ জন যাত্রী যাতায়াত করেছে। এর মধ্যে শনিবার ভারতে গেছে ৮৪৭ জন, ফিরেছে ৭৭৯ জন; রবিবার গেছে ৯৭৭ জন, ফিরেছে ৮৮০ জন; সোমবার গেছে ১,১৩৯ জন, ফিরেছে ৭৭০ জন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভিসা বন্ধ, ভিসা প্রদানে জটিলতা এবং নতুন নিয়মের কারণে পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত অনেকাংশে কমে এসেছে। এখন যারা যাতায়াত করছেন তারা আগের ভিসা ব্যবহার করছেন।’

Link copied!