ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের চেয়ে জামায়াতের আব্দুল কাদেরের সম্পদ বেশি। অমিতের নামে মামলা আছে ৫৩টি। আব্দুল কাদেরের নামে ফৌজদারি কোনো মামলা নেই। তারা দুই প্রার্থী পেশায় ব্যবসায়ী। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
হলফনামায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উল্লেখ করেছেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি (অনার্স), এমএসসি, এমবিএ। পেশায় ব্যবসায়ী। মামলা রয়েছে মোট ৫৩টি। যার মধ্যে ৪৬টিতে খালাস পেয়েছেন আর ৭টি চলমান। তিনি ১১ কোটি ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯৯৮ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। তার নগদ অর্থ আছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫১১ টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাবে ২ কোটি ২৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৪৮ টাকা বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার আছে ১ কোটি ৪৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯ টাকা রয়েছে। অংশীদারী ব্যবসায় রয়েছে ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৩ টাকা। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত ৩ কোটি ১২ লাখ ৪৪ হাজার ১৫২ টাকা। ডিপিএস আছে ২ কোটি ৯০ লাখ ৯৪ হাজার ৯১১ টাকা। বীমা ও ট্রাস্টি ২৭ লাখ ৭১ হাজার ২৭৪ টাকা। স্বর্ণ আছে ১২ হাজার ৫০০ টাকার। ৪ লাখ টাকার ইলেকট্রিক পণ্য ও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ৮৩৮ টাকার কৃষিজমি রয়েছে। তিন শতক জমির ওপর একতলা বাড়ি রয়েছে যার দাম ৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। অকৃষি জমি রয়েছে ৩৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। ৩০ তোলা স্বর্ণের দাম দেখিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৩০ হাজার টাকার ইলেকট্রিক পণ্য ও আসবাবপত্র রয়েছে ২০ হাজার টাকার।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি আছে ৩৭১.৫০ শতক, যার মূল্য ৩২ লাখ ৭১ হাজার ২৮২ হাজার টাকা। অকৃষি জমি ৩০৭.৫১ শতক যার মূল্য ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪৫ টাকা। একটি দ্বিতল বাড়ির মূল্য দেখিয়েছেন ৪৫ লাখ টাকা। দুটি ফ্লাট রয়েছে ১৪ লাখ ২২ হাজার ৮৫০ টাকার।
অমিতের স্ত্রী সোহানা পারভীনের পেশা ব্যবসা উল্লেখ করা হয়েছে। তার বার্ষিক আয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তার অস্থাবর সম্পদ তিন কোটি ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৮ টাকা। এর মধ্যে তার নগদ এক লাখ ৮৬ হাজার ৭৭১ টাকা। সঞ্চয়পত্র আমানত এক কোটি ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩২ টাকা। ডিপিএস ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৭ টাকা। যানবাহন ২৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা। সোনা অন্যান্য ধাতু ১ লাখ ৫০ হাজার ১ টাকা। ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র তিন লাখ ৫০ হাজার। তার স্থাবর সম্পদ রয়েছে এক কোটি ৫৯ লাখ ৫১ হাজার ৮২১ টাকা। এর মধ্যে এক লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকার কৃষি জমি, বনানী আবাসিক এলাকায় এক কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার ৩২১ টাকা মূল্যে ২৬৮৮ স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাট। বসুন্ধরা দক্ষিণ আবাসিক এলাকায় প্লটের জন্য অগ্রিম হিসাবে দেওয়া ৫৪ লাখ টাকা।
যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবদুল কাদের হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তিনি এমএ পাস ও পেশায় ব্যবসায়ী। তার নামে কোনো মামলা নেই। তার বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৩৮ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাতে আয় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা। ব্যবসায় আয় ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। শেয়ার ও সঞ্চয় ব্যাংক আমানত আয় দুই লাখ ৩৫ হাজার ৩৮ টাকা।
৯ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে নগদ ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ৪২৩ টাকা। শেয়ার, বন্ড মূল্য এক কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র এক কোটি। ১৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা মূল্যের প্রাইভেট কার, দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ২২ ভারি স্বর্ণ, দুই লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য, এক লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র, ৫০ হাজার টাকা মূল্যের পিস্তল, ১২০ দশমিক ৪১ শতাংশ জমি।
নিজ নামে ১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে ২৮ লাখ ৮৯ হাজার ১০৮ টাকা মূল্যের ১৫৭ দশমিক ৫৮ শতক কৃষি জমি, এক কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ২১ লাখ ৪১ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের একটি আবাসিক ভবন ও ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট। তার ব্যাংক ঋণ ও জমি বিক্রি বাবদ অগ্রিম গ্রহণ ৮১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৮ টাকা।
স্ত্রী সাবেকুন নাহার জেসমিনের পেশা ব্যবসা উল্লেখ করা হলেও আয়ের উৎস নেই। তার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ আছে ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭৩ টাকা। শেয়ার, বন্ড মূল্য এক কোটি টাকার, সঞ্চয়পত্র দুই কোটি টাকার, ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্য ৪৩ টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার স্থাবর সম্পদ ৮৬ লাখ টাকা মূল্যের ৪৩ শতক কৃষি জমি রয়েছে।

