সোমবার প্রথমবারের মতো যশোরে আসছেন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান। শহরতলীর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে দুপুরে অংশ নেবেন নির্বাচনী জনসভায়। দলীয় প্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর যশোর-কুষ্টিয়ার সাত জেলার নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। উন্নয়ন বঞ্চিত এই অঞ্চলে জনসভাটি রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার জনসভা শেষে হেলিকপ্টারে যশোর পৌঁছবেন তারেক রহমান। এরপর দুপুর দুইটার দিকে জনসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। এ সময় যশোর, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ার ২২ প্রার্থীকে জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়া হবে।
প্রথমবারের মতো দলের প্রধানের আগমণকে ঘিরে সমগ্র যশোরে সাজ সাজ রব রয়েছে। বিশাল মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। শহর ছাড়াও জনসভাস্থলে তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিলবোর্ডে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ জনদুর্ভোগ এড়াতে জনসভা শহরের বাইরে আয়োজন করেছে বিএনপি।
গত দুইদিন ধরে আনন্দ মিছিল ও প্রচারণা চালাচ্ছেন জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে জেলা বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম এবং সাবেক প্রচার সম্পাদক আসিছুর রহমান মুকুল।
সংবাদ সম্মেলনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘তারেক রহমানের আগমন নতুন প্রত্যয় ও চেতনা সঞ্চার করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং জবাবদিহিমূলক সংসদ ও নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন।’
তিনি আরও জানান, ‘জনসভায় মানুষের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই। যারা আসবেন, তারা ভালোবাসা ও আবেগ থেকেই আসবেন। যশোরবাসীর জন্য আমাদের অনেক দাবি রয়েছে, যা লিখিত আকারে তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে ভবদহ সমস্যার সমাধান, যশোর মেডিকেল কলেজের ৫শয্যা হাসপাতাল, আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিট পূর্ণাঙ্গ চালু এবং হাইকোটের বেঞ্চ স্থাপনসহ সব প্রয়োজনীয় দাবি তার কাছে উপস্থাপন করা হবে।’
জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘জনসভা শুধু উপশহর মাঠে সীমাবদ্ধ থাকবে না, আশপাশের সড়কও জনসমুদ্রে পরিণত হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর দেশ পরিবর্তনের পথে। জনগণ তারেক রহমানের নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে।’
নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলা ও ট্রাফিক পুলিশের একাধিক টিম জনসভাস্থলে দায়িত্ব পালন করছে। সোমবার বিকালে জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন।
তিনি বলেন, ‘জনসভা ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সমাবেশস্থলে তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে, যার মধ্যে একশ’ পুলিশ বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।’
-20260201222645.webp)

