ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। এরই মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে—সংরক্ষিত নারী আসনে কে বা কারা সংসদ সদস্য হচ্ছেন। এ দৌড়ে খানিকটা এগিয়ে রয়েছেন যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সাবিরা সুলতানা মুন্নী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। মাত্র একটি আসনে দলটির প্রার্থী জয়ী হন। ফলে এই অঞ্চলে দলের সাংগঠনিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্য ও ত্যাগী নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি উঠেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—সেই মনোনয়ন পাক সাবিরা সুলতানা মুন্নী।
তিনি যশোর-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং পরাজিত হন। বর্তমানে সাবিরা সুলতানা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি।
তার রাজনৈতিক জীবনের পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত শোকাবহ অধ্যায়। যশোর জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম ২০১১ সালে ঢাকা থেকে অপহরণের পর নিহত হন। স্বামীর মৃত্যুর পর গৃহিণী থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন সাবিরা নাজমুল মুন্নী।
২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন তিনি। এর পর থেকে দলের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। হামলা, মামলা ও কারাবরণসহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে দলকে সংগঠিত রাখতে কাজ করেছেন বলে নেতাকর্মীরা দাবি করেন।
তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসী ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১৬ সালের দলীয় কাউন্সিলে তাকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন।
দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে সাবিরা সুলতানা মুন্নীর নাম এখন সংরক্ষিত নারী আসনের আলোচনায় শীর্ষে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে যশোর অঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে।


