ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যশোর হাসপাতালে ১৫ বছর পর নতুন খাদ্য ঠিকাদার

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের খাদ্য সরবরাহে ১৫ বছর পর নতুন ঠিকাদার দায়িত্ব পেয়েছেন। এতদিন পুরাতন ঠিকাদারের মামলার কারণে টেন্ডার বন্ধ ছিল।  

রোববার ( ১ জানুয়ারি) থেকে নতুন ঠিকাদার রোগীদের মাঝে খাবার সরবরাহ করছেন। এখন থেকে রোগীপ্রতি ১৭৫ টাকার খাবার পাবেন। এর আগে পাচ্ছিলেন ১২৫ টাকার খাবার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, নতুন ঠিকাদার দায়িত্ব পাওয়ায় বর্তমান রেটে উন্নত খাবার পাবেন।

জানা গেছে, গত ২০১০-১১ অর্থবছরের পর থেকে হাসপাতালে খাদ্য সরবরাহের টেন্ডার হয়নি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আহ্বান করা টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৬ জুন উচ্চ আদালতে মামলা করেছিলেন ঠিকাদার হাফিজুর রহমান শিলু। ফলে আদালতের নির্দেশে খাবারের টেন্ডার বন্ধ ছিল। সেই থেকে একজন ঠিকাদার রোগীদের জন্য খাবার সরবরাহ করে আসছিলেন। আগের ১২৫ টাকা রেটে খাবার সরবরাহ করায় উন্নত খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন রোগীরা।

হাসপাতালের হিসাব রক্ষক ইসরাফিল হোসেন জানান, ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর উচ্চ আদালত থেকে খাবারের টেন্ডার দেওয়ার জন্য অনুমোদন মেলে। ১ ডিসেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খাবারের টেন্ডার প্রকাশ করা হয়। টেন্ডার পেয়েছেন মেসার্স আসলাম এন্টার প্রাইজ। তারা রোববার থেকে রোগীদের খাবার সরবরাহ শুরু করেছেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, মামলায় টেন্ডার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রোগীরা উন্নত খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।  কেননা ১২৫ টাকায় রোগীদের উন্নত খাবার সরবরাহ করা কঠিন। আদালত থেকে অনুমোদন পেয়ে রোগীদের খাবারের মান বাড়াতে নতুন টেন্ডার আহবান করা হয়। নতুন ঠিকাদার রোগীপ্রতি ১৭৫ টাকার খাবার সরবরাহ করবেন। আশা করি তিনি (নতুন ঠিকাদার) রোগীদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর  মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঠিকাদার হাফিজুর রহমান শিলুকে অনুরোধ করেছিলেন তখনকার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। তখন উপস্থিত হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসহাক ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রাশেদ খান। মানবিক কারণে মামলাটি তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিলে ঠিকাদার হাফিজুর রহমান সম্মতি দিয়েছিলেন।