× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

দরপত্রে ধস নামাতে সিন্ডিকেটের বাধা, রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

যশোরের শার্শা উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ সাতমাইল পশুহাটে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে এবারও সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রথম হাটে গত মঙ্গলবার বিক্রি হওয়া গরু এক জায়গায় রেখে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের সদস্যরা ক্রেতাদের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে গরু বের করে দিয়ে সরকারি রাজস্ব আদায় কম রাখার চেষ্টা করে।

প্রথম হাটে ব্যর্থ হওয়ায় দ্বিতীয় হাটে গরু ওঠা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সাতমাইল পশুহাটটি দীর্ঘদিন ধরেই ইজারা জটিলতায় ভুগছে। অতীতে প্রভাবশালী মহল ইজারা ছাড়াই নামমাত্র চার ভাগের এক ভাগ টাকা জমা দিয়ে খাজনা আদায় করত। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও একটি সিন্ডিকেট হাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করেও হাটটি ইজারা দিতে পারেনি। সর্বশেষ প্রশাসন নিজ উদ্যোগে খাজনা আদায় শুরু করলে শনিবার হাটে গরু ওঠা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বেলতলা, ঝিকরগাছা, নাভারণ, জামতলা ও শংকরপুর এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে পশুবাহী যানবাহন আটকে দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীরা যেন হাটে না আসেন সে জন্য মুঠোফোনে নিষেধও করা হয়। ফলে হাটে কার্যত বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায়।

তবে বাধা সত্ত্বেও প্রশাসন ওই দিন প্রায় ৬০ হাজার টাকা খাজনা আদায় করতে সক্ষম হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রথম দিনে ৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়ী ইউছুপ আলী জানান, না জেনে তিনি তিনটি গরু নিয়ে হাটে আসেন। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় বিক্রি হয়নি। এতে গাড়ি ভাড়া ও খরচ মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। একই ধরনের ক্ষতির কথা জানান আরেক বিক্রেতা ফারুক।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও হাটটি লুটপাটের শিকার হয়েছে দাবি করে শার্শা উপজেলা প্রশাসন জানায়, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সময় তারা হাটের দরপত্রে সকল দলের সহযোগিতা চেয়েছিলেন, কিন্তু কেউ সহযোগিতা করেনি।

বরং প্রভাবশালীরা হাটটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। হাটে দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি।

হাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক সমন্বয় কর্মকর্তা এম নূরুজ্জামান বলেন, সকালে কেউ বা কারা সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে গরু ওঠা বন্ধ করে দেয়, ফলে বেচাকেনা হয়নি।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ জানান, হাটটি টেন্ডার না হওয়ায় প্রশাসন খাজনা আদায় করছে। প্রথম দিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও দ্বিতীয় দিনে একটি প্রভাবশালী মহল সিন্ডিকেট করে গরু ওঠা বন্ধ করে দেয় এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ে কোনো আপস নেই। নিয়ম অনুযায়ী কেউ ইজারা নিতে চাইলে তা বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, সাতমাইল পশুহাটে সপ্তাহে দুই দিন হাজার হাজার গরু, মহিষ ও ছাগল বেচাকেনা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি হাটে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!