যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে রোগীকে জিম্মি করে ওষুধ সামগ্রী লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বরত কতিপয় কর্মচারী স্বাক্ষরবিহীন শর্টস্লিপের মাধ্যমে ভিকরিল (সুতা), প্যাথেডিন, হেক্সিসক্রাব, প্লাস্টার সপ্টরোল বাণিজ্যের সাথে জড়িত। কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও ফ্রি স্টাইলে এই অনিয়ম করছেন তারা। অসাধুদের কারণে মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সূত্র জানায়, বিগত দিনে অস্ত্রোপচার কক্ষের ধান্দাবাজ সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে ব্যর্থ হয়েছেন কর্মকর্তারা। বিভিন্ন অনিয়মের সত্যতা পেয়ে সেখানকার কতিপয় কর্মচারীকে অন্যত্র দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেও তারা ব্যর্থ হন। কতিপয় চিকিৎসক ওইসব কর্মচারীকে ‘এক্সপার্ট’ আখ্যা দিয়ে অপারেশন থিযেটারে রেখে দেন। ফলে তিন মাস পর পর বিভিন্ন ওয়ার্ডের ডিউটি রোস্টার পরিবর্তন হলেও অপারেশন থিযেটারে তা করা হয় না। তারা অজুহাত তৈরি করেন অপারেশন থিয়েটারে থেকে ওই কর্মচারীদের সরিয়ে নিলে চিকিৎসকদের কাজে নানা বেগ পেতে হবে। কারণ ওই কর্মচারীরা এক্সপার্ট হয়ে গেছে। তবে তাদের চেয়েও অনেক পারদর্শী কর্মচারী রয়েছে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মরত।
সূত্র জানায়, ধান্দাবাজ কর্মচারীদের দিয়ে নানাভাবে উপকৃত হন কতিপয় চিকিৎসক। অনেক সময় চিকিৎসককে না ডেকে ছোট খাটো কাজগুলো তারা নিজেরাই করে দেন। এতে করে ওই চিকিৎসকদের আর হাসপাতালে আসা লাগে না। দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রোপচার কক্ষে দায়িত্ব পালন করায় কতিপয় কর্মচারী ইচ্ছামতো বাণিজ্য করার সুযোগ পাচ্ছেন। তারা শর্টস্লিপের মাধ্যমে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকার ওষুধ সামগ্রী লুফে নিচ্ছেন।
একাধিক রোগীর স্বজন জানান, অপারেশন থিয়েটারে রোগী পাঠানোর পর চিকিৎসকের স্বাক্ষরবিহীন শর্টস্লিপে ওষুধ কেনানো হয়। তারা বাধ্য হয়ে এসব ওষুধ সামগ্রী কিনে দিতে দেন। আগে ওষুধ সামগ্রী শেষ হয়ে গেছে কি না জানতে চাইলেই কর্মচারীদের চোখ রাঙানি দেখতে হয়।
রোগীর স্বজন ফেরদৌস আহমেদ জানান, সম্প্রতি আলম নামে এক রোগীর পায়ে অপারেশন করা হয়েছে। অপারেশনের আগে প্রায় ৪ হাজার টাকার ওষুধ সামগ্রী কিনে দেওয়া হয়। অপারেশন চলাকালে অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে চিকিৎসকের স্বাক্ষরবিহীন একটি শর্টস্লিপ দেওয়া হয়। বলা হয়, তাড়াতাড়ি এগুলো কিনে আনেন। স্লিপে লেখা ছিল চারটি প্লাস্টার, দুটি সপ্টরোল, দুটি ভিকরিল (সুতা), একটি প্যাথেডিন ও একটি হেক্সিসক্রাব। প্রায় ২ হাজার টাকার এসব ওষুধ সামগ্রী কিনে দিতে বাধ্য হন।
আরেক রোগীর স্বজন নাসিমা খাতুন জানান, অপারেশন থিযেটারে তার মাকে ঢোকানোর পর ভেতর থেকে আরও তিনটি শর্টস্লিপ দেওয়া হয় ওষুধ কিনে আনার জন্য। যে ওষুধ সামগ্রী অস্ত্রোপচারের আগেই কিনে দিয়েছিলেন। তারপরও তাদের আবারও চারটি সুতা ও ইনজেকশন কিনে আনতে বাধ্য করা হয়। তবে শর্টস্লিপে কোনো ডাক্তারের স্বাক্ষর না থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলেও কিছুই বলতে পারেননি।
অভিযোগ উঠেছে, এভাবে প্রতিদিন একাধিক রোগীর স্বজনের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকার ওষুধ হাতিয়ে নেওয়া হয়। এসব ওষুধ কোথায় যায় যা নিয়েও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মচারীদের বাণিজ্যে কারণে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষ সরকারি হাসপাতালের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, অপারেশন থিযেটারে চিকিৎসকের স্বাক্ষরবিহীন শর্টস্লিপ না দিতে নির্দেশনা রয়েছে। যদি কোনো কর্মচারী এই অনিয়ম করে থাকেন সেটা অবশ্যই অন্যায়। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

