যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর নতুন করে ইরানে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। আগের সেশনে তেলের দাম কমে সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেলেও বুধবার (১০ জুন) বাজারে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার তথ্যও বাজারকে প্রভাবিত করেছে। খবর রয়টার্সের।
একটি মার্কিন অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনায় মঙ্গলবারই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সেই ঘোষণার পরপরই মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালায়। এই হামলা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতিকে ভেঙে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বুধবার লন্ডন বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৩ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেড়ে ৯২.২৯ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৬৮ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮.৯৭ ডলারে পৌঁছায়।
এর আগে, ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইসরাইল ও ইরান একে অপরের ওপর সরাসরি হামলা বন্ধ করলে মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৭ এপ্রিলের পর এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২৯ মে-র পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইসরাইল যদি লেবাননে হিজবুল্লাহ মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তারা আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের অভিযান বন্ধ না হওয়ার কারণেই এই অঞ্চলের যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে, তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এর জবাবে ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিজস্ব অবরোধ বজায় রেখেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতের অবসানে কোনো চুক্তি না হলেও পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানির পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাজারের সরবরাহসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) মঙ্গলবার প্রকাশিত উপাত্তে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত টানা অষ্টম সপ্তাহের মতো কমেছে। একই সময়ে পেট্রোলের মজুতও হ্রাস পেয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ৫ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৯১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল এবং পেট্রোলের মজুত ১১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল কমেছে।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া ও ইউরোপে তেল ও জ্বালানি পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছিল। তবে দেশটির নিজস্ব মজুত কমে আসায় ভবিষ্যতে রপ্তানি কার্যক্রমে চাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

