ঢাকা বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

বিপুল পরিমাণ-অস্ত্র-গুলি-ইয়াবাসহ আরেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ১১:১২ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নিজের জন্মদিন পালন করে বাসায় ফেরার পথে নাহিয়ান রবিন (২৩) নামে এক ছাত্ররীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রাজিব নামে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গ্রেপ্তারের সময় রাজিবের কাছ কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে ইয়াবা জব্দ করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো হলো- তিনটা পিস্তল, সাত রাউন্ড তাজা গুলি, তের রাউন্ড কার্তুজ, একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি চাপাতি,  তিনটা সুইচ গিয়ার চাকু, তিনটা নরমাল চাকু, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, অস্ত্র পরিষ্কারের মবিল, ১২০ পিস ইয়াবা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে গফরগাঁও পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার নিজ বাসা থেকে রাজিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার রাজিব একই এলাকার মোতালেব মিয়ার ছেলে। সে ক্যাপ্টেন গিয়াস এমপি থাকাকালে ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন।

এর আগে সোমবার (৮ জুন) রাত পৌনে ১টার দিকে গফরগাঁও পৌর শহরের মাজার রোড এলাকায় মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ছাত্রলীগ কর্মী নাহিয়ান রবিনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে। পরে নাহিয়ান রবিনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নাহিয়ান রবিন গফরগাঁও পৌর এলাকার সিলাশী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। রবিন স্থানীয় একটি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের ফাহমি গোলন্দাজ এমপি থাকাকালে গফরগাঁওয়ে দুটি সন্ত্রাসী বাহিনী ছিল। দুটি গ্রুপই নিয়ন্ত্রণ করতেন সাবেক এমপি ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল। এর একটি হলো- উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তাজমুন ও এমপি ফাহমি গোলন্দাজ বাবেলের পিসএস ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সোহেল। গ্রেপ্তার রাজিব ছিল সোহেল বাহিনীর সদস্য ও নিহত নাহিয়ান রবিন ছিল তাজমুন গ্রুপের সদস্য। পরে গফরগাঁও পৌর মেয়র সুমন সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। 

এতে এমপি ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল ও পৌর মেয়র সুমনের সাথে বিরোধ শুরু হয়। পরে তাজমুন পৌর মেয়র সুমনের গ্রুপে যোগ দেন। তাজমুন সুমনের গ্রুপে যোগ দেওয়ায় সাবেক এমপি বাবেলের নির্দেশে সোহেল ও তার লোকজন নিয়ে তাজমুনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাজমুনকে কোপানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার রাজিব জড়িত ছিল। এরপর থেকে পৌর মেয়র সুমন ও  তাজমুন এলাকা ছাড়া হয়। এই দুই গ্রুপের মাঝে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরপর থেকে নিহত নাহিয়ান রবিনের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল গ্রেপ্তার রাজিব।

সূত্র জানায়, নিহত নাহিয়ান রবিন তার বাবার একমাত্র সন্তান। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বন্ধুদের নিয়ে জন্মদিন পালন করেন। জন্মদিন পালন শেষে এক বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন। বাসায় ফেরার পখে মাজার রোড এলাকায় আসতেই আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা মুখোশধারি অজ্ঞাত ৫-৬ জনের একটি দল তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে নাহিয়ান রবিন কিছু বুজে উঠার আগে তাকে কুপিয়ে ও রড় দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, নাহিয়ান রবিন ছাত্রলীগ কর্মী ছিল। তার কোনো পদ ছিল না। তবে, বর্তমানে ছাত্রলীগের দলীয় কাজের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত রাজিব নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজিবের নামে এর আগেও মাদক ও অস্ত্রের একাধিক মামলা আছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।