যশোরে প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে অপহরণ ও নির্যাতনের মামলা করার পর তা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রাক্তন স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা শিরিন শিলা অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেন মোল্যাকে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিরিন শিলা যশোর সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বাঘারপাড়া উপজেলার খলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার প্রাক্তন স্বামী ফিরাজুল ইসলাম দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন না। এসব কারণে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর আইনানুগভাবে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকেই ফিরাজুল ইসলাম বিভিন্নভাবে তাকে হয়রানি করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, কুৎসা রটনা, পথরোধ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
শিরিন শিলার দাবি, ২০২৫ সালের ১৮ মে বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগা এলাকায় তাকে অপহরণ করে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তিনি যশোর আদালতে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মারধরের ভিডিও ফুটেজ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্তরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন। সর্বশেষ গত ১৭ জুলাই বিকেলে ফিরাজুল ইসলাম, তার ফুফাতো ভাই উজ্জল মোল্যা, চাচাতো ভাই তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজন অভিযোগকারীর চাচা গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে বিচারাধীন মামলা প্রত্যাহারের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। মামলা তুলে না নিলে শিরিন শিলা ও তার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাকে চাকরি করতে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই রাস্তাঘাটে হেনস্তার হুমকি দিচ্ছেন। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফিরাজুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কবির হোসেন মোল্যা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন