স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিয়মিত এই সড়কে অভিযান চালিয়ে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণের বার উদ্ধার এবং চোরাচালানিদের আটক করছে। তবে সবচেয়ে বেশি চালান ধরা পড়ছে নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায়। চলতি জুলাই মাসেই বিজিবির চারটি পৃথক অভিযানে নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে ১২টি স্বর্ণের বার ও দুটি অর্ধেক স্বর্ণের বারসহ চার চোরাচালানিকে আটক করা হয়েছে। এ কারণে স্থানীয়দের কাছে এলাকাটি এখন ‘স্বর্ণের খনি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
গত ২৬ জুলাই ভোরে নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ ৩৩ হাজার ১৭৫ টাকা মূল্যের চারটি পূর্ণ ও একটি অর্ধেক স্বর্ণের বারসহ সুমন মণ্ডল নামে এক পাচারকারীকে আটক করে বিজিবি। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামিয়া বাজার গ্রামের প্রাণনাথ মণ্ডলের ছেলে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪৯ বিজিবির একটি বিশেষ দল নীলগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সুমনকে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করতে দেখে তল্লাশি করা হলে তার শরীরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ছিল ৬৮০ গ্রাম।
এর আগে ২২ জুলাই একই এলাকা থেকে ৪৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্বর্ণের বারসহ সাদিকুর রহমান সুমন নামে এক পাচারকারীকে আটক করা হয়।
১৩ জুলাই নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের বারসহ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসন্ডা গ্রামের তাজুল ইসলামকে (৩৩) আটক করে বিজিবি।
৭ জুলাই নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের চারটি পূর্ণ ও একটি অর্ধেক স্বর্ণের বারসহ রিপন মৃধাকে আটক করা হয়। রিপন নড়াইল জেলার টোনা গ্রামের রজব আলী মৃধার ছেলে। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ছিল ৫৮৩ দশমিক ১৯ গ্রাম।
এর আগে গত ২ জুন নীলগঞ্জ ব্রিজের ওপর থেকে ১২টি স্বর্ণের বারসহ লিটন রায় নামে একজনকে আটক করা হয়। তিনি ঢাকার শাঁখারীবাজার এলাকার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে ১ কেজি ৩৯৭ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৩ লাখ টাকা।
গত ৭ মে নীলগঞ্জ ব্রিজের কাছ থেকে ৬ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ৮৬৭ টাকা মূল্যের ২৬টি স্বর্ণের বারসহ তিনজনকে আটক করে বিজিবি। আটকরা হলেন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের ইসরাইল সর্দার, চৌগাছা উপজেলার উত্তর কয়েরপাড়া গ্রামের আব্দুল গনি এবং শার্শা উপজেলার রাজনগর গ্রামের রনি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নিয়ে একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ৩ কেজি ৪৮ গ্রাম ওজনের ২৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেন। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৭ হাজার ৩২৭ টাকাও জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, চোরাচালানকারীরা ঢাকা থেকে যশোর হয়ে বেনাপোল ও সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব স্বর্ণ বহন করে থাকে। নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে বারবার স্বর্ণের চালান উদ্ধার হলেও পাচারকারীরা এখনও এই রুটকে নিরাপদ মনে করছে। যদিও এলাকাটির কাছেই বিজিবির ক্যাম্প রয়েছে। তবে স্বর্ণ পাচার রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে থাকায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার হচ্ছে।
যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। স্বর্ণ চোরাচালান দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনের শাসনের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। পাচারকারীরা যশোরের বিভিন্ন রুট ব্যবহার করছে। বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে স্বর্ণের বারসহ চোরাচালানিদের আটক করছে। চলতি মাসে নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকেই সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে। স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বিজিবির গোয়েন্দা দল নিরলসভাবে কাজ করছে।

