ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

স্বপ্না চক্রবর্তী
প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

খাদ্যদ্রব্যে প্লাস্টিকের কণা বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের দৈনন্দিন খাবার, পানীয় এবং এমনকি রান্নার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণা শরীরে প্রবেশ করছে। লবণ, মশলায়, বোতলজাত পানি, সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি ও শামুক, চাল, ফল ও সবজি (মাটি ও সেচের পানির মাধ্যমে), প্রক্রিয়াজাত মধু, প্লাস্টিকভিত্তিক টি-ব্যাগ, কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত খাবারের মধ্যে এতদিন প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেলেও এবার আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে টুথপেস্টও।

প্রতিবেদন মোতাবেক পরীক্ষা করা নমুনাগুলোর নয়টি ইউনিলিভার বাংলাদেশের পণ্যের আটটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এক গবেষণায় এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) গত রোববার জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যেখানে প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সংখ্যা ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত।

শুধু তাই নয়, শিশুদের জন্য ব্যবহৃত ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও পাওয়া গেছে এসব প্লাস্টিকের কণা। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো দাবি করছে- তাদের টুথপেস্টের মান ঠিক আছে কিন্তু বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বলছে, টুথপেস্টে প্লাস্টিকের উপস্থিতি বিষয়ে মান যাচাইয়ের প্যারামিটার নেই বিশ্বের কোনো দেশেই। কিন্তু এই গবেষণার ভিত্তিতেই এই টুথপেস্টগুলোর বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করার জন্য হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষজনের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি আতংক।

ইএসডিও’র গবেষকেরা বলছেন, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করছে। তারা বলছেন, কোনোভাবেই টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে না।

গবেষকদের দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণায় ১৯টি প্রধান ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। এর মধ্যে দেশে তৈরি ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামে তৈরি দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি নমুনার ছয়টি ছিল শিশুদের টুথপেস্ট। এর মধ্যে চারটিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

গবেষণার ফল বিষয়ে ইএসডিওর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাসোসিয়েট ড. ফয়জুন নাহার জানান, খুচরা দোকান, সুপারমার্কেট ও পাইকারি বাজার থেকে নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, গবেষণায় সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলে’, প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা। মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া অন্য টুথপেস্টগুলোর মধ্যে ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে’ প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলাতে ‘(স্ট্রবেরি) ১৪০টি, ‘সিগন্যাল গ্রিন টিতে’ ১২০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে’ ১০০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে’ পাওয়া গেছে ৮০টি কণা। ‘পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট’, ‘হোয়াইট প্লাস রেড’, ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল’, ‘সিগন্যাল হোয়াইটেনিং’, ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি) ও ‘মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলায়’ পাওয়া গেছে ৬০টি করে।

এ ছাড়া ‘এমপিএম হারবাল’, ‘মেডিপ্লাস ডিএস’, ‘পেপসোডেন্ট জার্মিচেক’, ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ), ‘ম্যাজিক হারবাল’, ‘মেসওয়াক’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে’ ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ‘ডেন্টিন জেল’, ‘পেপসোডেন্ট কিডস’ (অরেঞ্জ), ‘ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট’, ‘ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল’ ও ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে’ পাওয়া গেছে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা। মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ) ও ‘পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ’ শিশুদের জন্য তৈরি।

বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, নানা সময়ে মানুষের ফুসফুস, হার্ট, কিডনি, লিভার, পুরুষদের অন্ডকোষ, মহিলাদের ডিম্বাশয়ে প্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে আগেই। যেগুলো দৈনন্দিন বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এবার টুথপেস্টেও পাওয়া গেছে প্লাস্টিকের উপস্থিতি। যদিও মানুষ টুথপেস্ট খায় না কিন্তু খাওয়ার একমাত্র প্রবেশপথ মুখগহ্বর পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হয়। যেটির দ্বারা মুখগহ্বর পরিষ্কার হবে সেটিতেই যদি বিষ থাকে তাহলে তো বিপদ আরও বেশি। এক খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে প্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। আবার টুথপেস্টের মাধ্যমেও প্রবেশ করছে। এতে করে জনস্বাস্থ্য দুই ধরনের ঝুঁকিতে পরে গেল। মানুষের শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের জন্য এই প্লাস্টিক অন্যতম দায়ী।

এ ছাড়া এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক কিডনি, লিভার, ফুসফুসেরও মারাত্মক ক্ষতি করে। এমনকি বন্ধ্যাত্বেরও সৃষ্টি করতে পারে। যেহেতু একটি গবেষণার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির নাম পাওয়া গেছে। এখন সরকারের উচিত হবে সেগুলোকে জোর দিয়ে ধরা। নইলে জনস্বাস্থ্য হুমকিতেই থাকবে।

গবেষণা প্রতিবেদনেও বলা হয়, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুযায়ী মাইক্রোপ্লাস্টিক শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা, হৃদরোগ-সংবহনতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে রয়েছে প্রদাহ, অঙ্গের ক্ষতি, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ভ্রূণের বিকাশে বিরূপ প্রভাব।

গবেষণার অংশ হিসেবে ২ হাজার ৭৬০ জনের ওপর পরিচালিত জরিপে ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা কখনো মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে শোনেননি। ২৭ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে সচেতন। ইএসডিওর মহাসচিব শাহরিয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, কাঁচামালের খরচ কমানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, কাঁচামালের খরচ কমানোর জন্য এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়। এটি অসদাচরণ এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। ভোক্তা অধিকার আইনে সাধারণত এ ধরনের কাজ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তবে নিজেদের উৎপাদিত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার একেবারেই নেই দাবি করেছে কোম্পানিগুলো। প্রতিবেদন মোতাবেক পরীক্ষা করা নমুনাগুলোর নয়টি ইউনিলিভার বাংলাদেশের পণ্যের আটটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

কিন্তু কোম্পানিটি গণমাধ্যমের লিখিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কাছে দাবি করেছে টুথপেস্টসহ তাদের সব পণ্য কঠোর বৈশ্বিক মান এবং স্থানীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান মেনে তৈরি ও উৎপাদন করা হয় এবং সেগুলো ব্যবহার ও গ্রহণের জন্য নিরাপদ।

ইএসডিওর প্রতিবেদন সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছে জানিয়ে ইউনিলিভার বলেছে, গবেষণার ফল, পদ্ধতি ও পরীক্ষা প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এদিকে স্কয়ার টয়লেট্রিজের ছয়টি নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং গবেষণা অনুযায়ী সবটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

এই কোম্পানিটির হেড অব মার্কেটিং জেসমিন জামান সাংবাদিকদের বলেন, তাদের পণ্যে এ ধরনের উপাদান থাকার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের সব নির্দেশিকা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত মেনেই পণ্য সরবরাহ করা হয় দাবি করে তিনি বলেন, স্কয়ার সব সময় তার পণ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও মান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিবেদন প্রকাশের পর কোম্পানির কারিগরি দল পণ্যগুলো পরীক্ষা করছে বলেও জানান তিনি। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও পরীক্ষা করানো হচ্ছে।

জেসমিন জামান বলেন, এ ধরনের কিছু পাওয়া গেলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এ ছাড়া গবেষণায় পরীক্ষা করা চারটি নমুনা ছিল অ্যানফোর্ডস বাংলাদেশের, যার মধ্যে সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলও রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যস্ত আছেন এবং পরে যোগাযোগ করতে হবে। কিন্তু পরে আর তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 
তবে বাংলাদেশ কেন পৃথিবীর কোনো দেশেই টুথপেস্টের মানদণ্ডের প্যারামিটারে প্লাস্টিকের উপস্থিতির বিষয় নেই দাবি করে বিএসটিআই’র পরিচালক (মান) সাইদুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, এই গবেষণায় শুধু বাংলাদেশে উৎপাদিত টুথপেস্ট না ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামের টুথপেস্টও রয়েছে। এসব কোনো দেশেই টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক যাচাইয়ের প্যারামিটার নেই। মূলত পৃথিবীর কোথাও নেই এ রকম মানদণ্ড। তবে আমরা গবেষণা প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই করে আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) একটি প্রতিবেদন আপনাদের দেব। আশা করি, আপনারা এ বিষয়ে বিস্তারিত সেখান থেকে জানতে পারবেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা নেই বলে জানিয়েছে ইএসডিও’ও। সংস্থাটি এ বিষয়ে জাতীয় বিধিবিধান প্রণয়ন, মানসম্মত পরীক্ষা পদ্ধতি চালু এবং কোম্পানিগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা তৈরির সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা এবং নিরাপদ ও টেকসই বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

ইএসডিওর চেয়ারপারসন সৈয়দ মার্গুব মুর্শেদ বলেন, বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বেসলাইন গবেষণা। ভবিষ্যতে মান নির্ধারণ, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রমাণ এই গবেষণা থেকে পাওয়া যাবে।

ধীরে ধীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করলে মানবদেহে একাধিক পর্যায়ে ক্ষতি হতে পারে উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি মানবদেহের হজম এনজাইমকে বাধা দেয়, যা পেটে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। শুধু তাই নয়, এক পর্যায়ে এটি লিভার ও কিডনিকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতেও বাধা দেবে। নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। কারণ এটি আমাদের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি। তাই বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বসহকারে তদারকি করার পরামর্শ দেন তিনি।