ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয়ে এক সপ্তাহের লড়াই শেষে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শুধু পরিবার নয়, দেশের সিংহভাগ মানুষই হাদির মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।
ভাইয়ের মৃত্যুতে হাদির ছোট বোন মাসুমা সুলতানা ও ভগ্নিপতি মাওলানা আমির হোসেন আবেগঘন বার্তা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটির গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা এসব মন্তব্য করেন।
আজ সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় হাদির মরদেহ। তাকে দেখতেই তারা ঢাকার পথে রওনা দিয়েছিলেন। অকুতোভয় এই বীর শরীফ ওসমান হাদির গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটিতে। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন।
সাংবাদিকদের হাদির ছোট ভগ্নিপতি মো. আমির হোসেন বলেন, ‘হাদি এখন আর আমাদের পরিবারের একক সম্পদ নয়, তিনি পুরো বাংলাদেশের হাদি। তার বাবার কবরের পাশে শায়িত করার ওসিয়ত থাকলেও বিষয়টি এখন শুধু পরিবারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। সরকার ও পরিবারের আলোচনার মাধ্যমে যেখানে সিদ্ধান্ত হবে সেখানেই তাকে সমাহিত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শরীফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগ পাঠ্যপুস্তকে লিপিবদ্ধ করা হোক, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার অবদান জানতে পারে।’ যেহেতু তিনি অধিকাংশ সময় শাহবাগ মোড়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সে বিবেচনায় সরকার যেন ওই স্থানের নাম তার নামে নামকরণ করে, এই দাবিও জানান তিনি।
তবে ওসমান হাদির ওসিয়ত ছিল, তার মৃত্যুর পর যেন তাকে পিতার কবরের পাশে শায়িত করা হয়। সে অনুযায়ী নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের হাড়িখালি মুন্সিবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
হাদির বোন মাসুমা সুলতানা বলেন, ‘আমার ভাইকে আওয়ামী লীগের লোকজন হত্যা করেছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই আগামী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছিল। এই দাবির কারণেই ভারতের দালালদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। তারা এখন নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। দেশের জনগণের প্রতি অনুরোধ, কোনোভাবেই যেন নির্বাচন বানচাল করতে না পারে।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? তারা কীভাবে মুক্ত বাতাসে ঘুরছে?’ এই প্রশ্ন তুলে প্রশাসনের উদাসীনতা পরিহার করে স্বৈরাচারী খুনিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন। শুক্রবার বেলা ২টা ৩০ মিনিটে তাড়াইলে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলে অংশ নেওয়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তাড়াইল উপজেলার প্রধান সড়ক থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলজুড়ে ছিল ক্ষোভে ফেটে পড়া স্লোগান—‘হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, হাদি হত্যার বদলা নেব’।
অন্যদিকে, বিকেল ৩টায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া জিরো পয়েন্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেন। এদিকে, হাদির পৈতৃক বাড়িতে পুলিশ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।




সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন