ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শোকের আবহে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই 

নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
৩৯ নং গোদন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই বিতরণের চিত্র। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

শীতের কুয়াশায় মোড়ানো এক নির্মল সকালে নতুন সূর্যের আলো ছুঁয়ে যখন শুরু হলো ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন, তখন সেই সকালটি নলছিটির হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য হয়ে উঠল আরও বেশি রঙিন ও স্মরণীয়। বছরের প্রথম দিনটি তাদের কাছে শুধুই একটি নতুন ক্যালেন্ডারের শুরু নয়- এটি নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশা আর নতুন শ্রেণিতে পদার্পণের আনন্দঘন উৎসবের দিন। পরিপাটি ইউনিফর্ম পরে, কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে, চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস আর আগ্রহ নিয়ে বিদ্যালয়মুখী শিশুদের পদচারণায় যেন প্রাণ ফিরে পায় গোটা এলাকা।

শিক্ষার্থীদের হাতে যখন তুলে দেওয়া হয় সদ্য ছাপা, সুঘ্রাণযুক্ত নতুন বই- তখন তাদের মুখের হাসিতে ফুটে ওঠে ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর অজানাকে জানার আনন্দ। বইয়ের নতুন পাতায় হাত বুলিয়ে তারা যেন ছুঁয়ে দেখে নিজের আগামী দিনের পথচলা। এ এক ভিন্নরকম উৎসব- যেখানে নেই বাজনা, নেই মিছিল, কিন্তু আছে জ্ঞান অর্জনের প্রতিজ্ঞা আর আলোকিত আগামী গড়ার অদম্য প্রত্যয়।

এই আনন্দঘন পরিবেশেই ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে নলছিটি উপজেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলার ১৬৭টি সরকারি ও রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়েছে। একই সঙ্গে মাধ্যমিক পর্যায়েও সীমিত পরিসরে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) কাল থেকেই স্কুলগুলোতে নতুন বই নিতে উৎসুক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল নতুন বইয়ের আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। তবে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে চলমান রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এ বছর নতুন বছর ও নতুন বই উৎসবের কোনো আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়নি। শোকের আবহে নীরবভাবে বই বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

গোদন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নাসির উদ্দীন খান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথম দিনেই সব বিষয়ের নতুন বই তুলে দিতে পেরেছি। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যেমন খুশি, তেমনি বছরের শুরু থেকেই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইশা রহমান জানায়, আমি নতুন সব বই পেয়েছি। এবার সব বই একসাথে পেয়ে খুব ভালো লাগছে।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়াদুল বলেন, সবাই আমরা বই পাইনি। এতে মনখারাপ লাগছে, স্যারেরা বলছেন খুব তারাতাড়ি আমাদের নতুন বই আসবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আক্তার বলেন, চাহিদা অনুযায়ী আমরা প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণির বই পেয়েছি। বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বই বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে বইয়ের কোনো ঘাটতি থাকবে কি না, তা বিতরণ কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার আজীম বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে সপ্তম শ্রেণির বই এখনো আসেনি। তবে ষষ্ঠ, অষ্টম ও নবম শ্রেণির বই পাওয়া গেছে। মাদ্রাসা পর্যায়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির সব বই এসেছে, কিন্তু ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো পাওয়া যায়নি। যে শ্রেণিগুলোর বই আসেনি, সেগুলোও হয়তো দুই-এক দিনের মধ্যেই চলে আসবে।

তিনি আরও জানান, বছরের প্রথম দিনেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি নিজে নলছিটি সরকারি মার্চেন্টস মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

নতুন বই হাতে পেয়ে বছরের শুরু থেকেই নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমের প্রত্যাশা করছেন শিক্ষকরা। নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মুখর হয়ে উঠেছে নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।