ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নাকের হাড় অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে রোগীর মৃত্যু

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
স্ক্যান হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

যশোরের স্ক্যান হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নাকের হাড় বাঁকা (ডিএনএস) অপারেশন শেষে বেডে নেওয়ার পর আবুল হোসেন নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বেডে নেওয়ার পর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দুটি ইনজেকশন পুশ করার পরপরই তিনি ছটফট করতে শুরু করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান।

ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে যশোরের স্ক্যান হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

নিহত আবুল হোসেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ধান্যহাড়ীয়া গ্রামের আবু ছিদ্দিকের ছেলে। মৃত্যুর পর তড়িঘড়ি করে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আবুল হোসেনের মরদেহ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশনসহ যাবতীয় কাগজপত্র স্বজনদের কাছ থেকে নিয়ে নেয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের স্ত্রী ফুলমতি বলেন, ‘অপারেশন শেষে বেডে নেওয়ার পর আমার স্বামীর গলা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং বমি বমি ভাব করছিল। এ সময় নার্স এসে দুটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তিনি অস্বাভাবিকভাবে ছটফট করতে শুরু করেন। পরে অক্সিজেন দেওয়া হলে ১৫ মিনিটের মধ্যেই আমার স্বামী মারা যান। অল্প সময়ের মধ্যেই ওরা আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে।’

চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, স্ক্যান হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দায়িত্বে থাকা গোপালপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে বিপুর সঙ্গে ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় আবুল হোসেনের অপারেশন করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর রাত ৮টার দিকে তাকে বেডে আনা হয়। তখন তার গলা দিয়ে থুতুর সঙ্গে রক্ত বের হচ্ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এশার নামাজ পড়ে হাসপাতালে ফিরে এসে দেখি আবুলকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। অক্সিজেন দেওয়া অবস্থায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই সে মারা যায়। পরে হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দিলে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসি। বাড়িতে আসার সময় চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ও অন্যান্য কাগজপত্র হাসপাতালের লোকজন আমাদের কাছ থেকে নিয়ে রেখে দেয়।’

এ বিষয়ে স্ক্যান হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বিপু বলেন, ‘আমার বাড়ি মহেশপুরে। আবুল হোসেন আমার পরিচিত। যশোর সদরের একজন ডাক্তার তার অপারেশন করেছেন। আবুল হোসেন হার্টফেল করে মারা গেছে। তবে মৃত্যুটিকে অস্বাভাবিক বলা যায়। আমার পক্ষ থেকে আবুল হোসেনের পরিবারকে কিছু সহযোগিতা করা হবে।’