ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মহেশপুরে সরকারি জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ১১নং মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নের পুড়াপাড়া বাজারে সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধভাবে স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলের সুযোগ নিয়ে প্রশাসনের অগোচরে রাতারাতি এই অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় বাজারের সাধারণ হাটের ইজারাদার আব্দুল আলিম গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মহেশপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌগাছা উপজেলার খড়িঞ্চা গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে সুমন হোসেন পুড়াপাড়া বাজারের সরকারি খাস জমিতে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পাকা ঘর নির্মাণ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনের ব্যস্ততাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের নজর এড়াতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

সরেজমিনে বুধবার দুপুরে পুড়াপাড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ঘরের ছাদ চারদিকে ছালার বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, যাতে নতুন ঢালাইয়ের বিষয়টি কারো নজরে না আসে।

ব্যবসায়ীরা জানান, অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের সময় তাকে মৌখিকভাবে নিষেধ ও সতর্ক করা হয়েছিল। তবে দখলকারী সুমন হোসেন কারো কোনো কথা তোয়াক্কা না করে পেশিশক্তির ভয় দেখিয়ে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখেন। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমন হোসেনের কাছে জমির বৈধ কোনো কাগজপত্র (ডিসিআর) দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। উল্টো সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, ‘সবাই ছাদের দোকান করছে, তাই আমিও করেছি।’

স্থানীয়রা ও পুড়াপাড়া বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাবি, এভাবে সরকারি খাস জমি দখল হতে থাকলে বাজারের ব্যবসায়িক পরিবেশ নষ্ট হবে এবং শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দখলকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) দলিল উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই সরকারি জমিতে পাকা ছাদ দিয়ে দোকানঘর তোলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও সচেতন মহল।