ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে একই স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। সর্বশেষ সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় বারোবাজার রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় শুভ (২৮) নামে এক যুবক ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন।
এর আগে গত পাঁচ দিন আগে একই স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে আরেক অজ্ঞাতনামা যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। নিহত শুভ ছিলেন উপজেলার বেলাট গ্রামের কায়স্থপাড়া এলাকার বিদ্যুৎ চৌধুরীর ছেলে এবং বারোবাজার বাজারে অবস্থিত ‘শুভ টেলিকম’ এর স্বত্বাধিকারী।
তিনি এলাকায় একজন পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। আকস্মিক মৃত্যুর কারণে তার পরিবার, স্বজন ও ব্যবসায়ী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন বারোবাজার রেলস্টেশন অতিক্রম করার সময় স্টেশন থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে শুভকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন এবং অল্প সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে যশোর রেলওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য নিয়ে যায়। ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
বারোবাজার রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার সিদ্দিকুর রহমান জানান, সন্ধ্যার দিকে ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, একই স্থানে এর আগে গত পাঁচ দিন আগে ট্রেনে কাটা পড়ে এক অজ্ঞাতনামা যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। একই স্থানে বারবার দুর্ঘটনা ঘটায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, স্পিড নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় গেট বা ব্যারিকেড বসানোর দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


