ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার ব্যস্ততা তুঙ্গে। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হলেও বৃষ্টির আশঙ্কা এবং বাজারে দামের অনিশ্চয়তায় কৃষকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার উমেদপুর, দিগনগর, ধাওড়া, মহিষাডাঙা মাঠসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষক পরিবারের সদস্যরা মাঠে নেমে পেঁয়াজ তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোররাও পেঁয়াজ সংগ্রহে সহায়তা করছে। কেউ বস্তাভর্তি পেঁয়াজ মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ গরুর গাড়ি কিংবা ভ্যান ব্যবহার করছেন পরিবহনের জন্য।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজের ফলন আশানুরূপের চেয়েও বেশি হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৮০-১০০ মণ, কিছু কিছু মাঠে ১৫০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া গেছে বলে দাবি করছেন অনেকে।
তবে হঠাৎ বৃষ্টি হলে জমিতে থাকা পেঁয়াজ ভিজে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে দ্রুত পেঁয়াজ ঘরে তোলার কাজ চলছে।
কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, দাম যাই হোক, আগে পেঁয়াজ ঘরে তুলতে হবে। বৃষ্টি হলে সব শেষ। ভেজা পেঁয়াজ বাজারে কেউ নিতে চায় না, নিলেও দাম খুব কম দেয়।
এদিকে বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল না থাকায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। স্থানীয় আড়তদাররা জানান, অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যারা আগাম পেঁয়াজ কিনে মজুদ করেছেন, তারা এখন লাভ-লোকসানের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, এবার ফলন বেশি হওয়ায় বাজারে চাপ পড়েছে। দাম বাড়বে নাকি কমবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। তাই মজুদ করে লাভ হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপা উপজেলায় চলতি মৌসুমে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে সঠিক সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকলে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভালো ফলনের আনন্দ থাকলেও প্রাকৃতিক ঝুঁকি ও বাজারদরের অনিশ্চয়তায় শৈলকুপার পেঁয়াজ চাষিদের মুখে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।


