ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ভাতিজার পরিকল্পনায় ‘ছিনতাই নাটক’, তবুও শেষ রক্ষা হলো না

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের সেলিনা বেগম (৫০) একটি এনজিও থেকে ৬ লাখ টাকা লোন নেয়। তিনি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের একটি ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে ভাতিজা লিটনের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। বিকেলের দিকে মহেশপুরের মথুরানগর গ্রামের দত্তনগর-জলিলপুর সড়কে পৌঁছালে দুজন ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলে এসে সেলিনা বেগমের হাত থেকে টাকাসহ ব্যাগটি ছিনিয়ে নিযে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে মহেশপুর থানার পুলিশ ছিনতাইকারীদের আটক ও টাকা উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একটি ইয়ামাহা ফেজার মোটরসাইকেল শনাক্ত করে। ওই মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে জলিলপুর গ্রামের আয়ুব হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান খানকে (২৪) হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন এবং ছিনতাইকৃত টাকা তার বাড়িতে আছে বলে পুলিশকে জানান। তিনি আরও জানান, সেলিনা বেগমের সাথে থাকা তার ভাতিজা লিটনই এই ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকরী। লিটন শেখ (৪০), মো. আমিনুর রহমান খান (২৪), মো. মোস্তফা জামান ওরফে বরকত বিশ্বাস (৪৭) এবং মো. শাওন বদ্দি (২৩) মিলে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ঘটনার পূর্বে আমিনুর ও শাওন মোটরসাইকেল নিয়ে লিটন ও তার ফুফুকে ফলো করতে থাকে। ঘটনাস্থলে লিটন তার মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দিলে আমিনুরের মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা শাওন সেলিনা বেগমের হাত থেকে টাকার ব্যাগটি টান দিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

রাত ৮টার দিকে পুলিশ আমিনুরকে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে ছিনতাইয়ের ৬ লাখ টাকা উদ্ধার করে। এরপর লিটন ও বরকতকে পৃথক স্থান থেকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় জড়িমহেশপুরের কাজীপাড়া গ্রামের আইনাল বদ্দির ছেলে শাওন বদ্দি (২৩) এখনো পলাতক। পুলিশ তাকেও আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে।