× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

কনকনে ঠান্ডায় ঘরবন্দি মানুষ, জেগে থাকেন এক প্রবীণ নৈশপ্রহরী

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

নৈশপ্রহরী মাহতাব। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নৈশপ্রহরী মাহতাব। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চারদিক যখন ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়, বাতাসে কনকনে ঠান্ডা ছড়িয়ে পড়ে, তখন আক্কেলপুর পৌর শহরের মানুষ ঘরে লেপ-কম্বলের নিচে আশ্রয় নেয়। থার্মোমিটারে তাপমাত্রা নেমে এসেছে মাত্র ৭-৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ হাড়কাঁপানো শীতে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা, দোকানপাট বন্ধ, মানুষের চলাচল সীমিত।

তবে এই নীরব রাতেও শহরের বাজার এলাকা পাহারা দিতে নির্বিচারে হাঁটছেন আক্কেলপুরের মাহতাব (৭৫) নামের এক প্রবীণ নৈশপ্রহরী। শরীরে বয়সের ভার থাকলেও দায়িত্বের ভার তাকে থামাতে পারেনি।

মোটা জামা আর পুরোনো চাদর জড়িয়ে নিয়েও শীতের কাছে হার মানছে তার শরীর। কাঁপতে কাঁপতে তিনি দোকানের শাটারের সামনে দাঁড়ান, গলিপথ ধরে হেঁটে যান, কোথাও সন্দেহজনক কিছু আছে কি না তা খেয়াল রাখেন।

মাহতাব বলেন, শরীরটা আর আগের মতো নেই। ঠান্ডায় খুব কষ্ট হয়, হাড়ে হাড়ে লাগে। কিন্তু দায়িত্ব ফেলে রাখা যায় না। আমি না থাকলে দোকানগুলো ঝুঁকিতে পড়বে। মাসে মাত্র আট হাজার টাকা বেতন পাই। রাত ১০টার আগে ডিউটি শুরু করি। প্রায় ৩০ বছর ধরে এই কাজ করছি। শুরুতে মাত্র ১২শ টাকা বেতনে কাজ করেছি। এখনো সংসার চালাতে তেমন উপার্জন হয় না। আমার পাঁচ কন্যাসন্তান আছে, তাদের বিয়েও দিয়েছি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বহু বছর ধরেই মাহতাব রাতভর তাদের দোকানপাট পাহারা দিয়ে আসছেন। চুরি, ডাকাতি বা ভাঙচুরের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা যখন দুশ্চিন্তায় থাকেন, তখন তার উপস্থিতিই তাদের ভরসা হয়ে ওঠে। শীত, বর্ষা বা অসুস্থতা কোনো কিছুই তাকে দায়িত্ব থেকে সরাতে পারেনি।

ব্যবসায়ী নিতাই চ্যাটার্জী বলেন, এমন ঠান্ডায় তরুণদেরও দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর। আক্কেলপুরে বেশ কয়েকজন প্রবীণ নৈশপ্রহরী রয়েছেন। তারা রাতভর বাজারে ঘুরে ঘুরে দোকান পাহারা দেন। তাদের জন্যই আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে কুয়াশার ভেতর একা হাঁটতে থাকা এই প্রবীণ নৈশপ্রহরী যেন শহরের এক নীরব প্রহরী। আলো-আঁধারির মধ্যে তার ছায়া শুধু নিরাপত্তার নয়, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতারও প্রতীক।

কলেজবাজার বণিক সমিতির সভাপতি কাজী শফিউদ্দীন ও নিচাবাজার বণিক সমিতির সভাপতি ওয়াহেদ প্রামাণিক জানান, নিচাবাজার ও কলেজবাজারে ১০ জন নৈশপ্রহরী রয়েছেন, তার মধ্যে পাঁচজন প্রবীণ। দীর্ঘদিন ধরে তারা রাতে পাহারা দিচ্ছেন।

অনেক কিছু ইচ্ছা থাকলেও তারা সব করতে পারছেন না। বেতনও সীমিত। ভবিষ্যতে তাদের প্রতি আরও সহানুভূতি দেখানো হবে এবং বেতন বৃদ্ধি করা হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!