ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

নিজ বাড়ি থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
আক্কেলপুর থানা ও ইনসেটে নিহত গৃহবধূ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে নিজ বাড়ি থেকে আরিফা আকতার (১৯) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

রোববার (১ মার্চ) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার আওয়ালগাড়ী গ্রামে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

নিহতের বাবা দাবি করেছেন, তার মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করেছে। হত্যার পর আত্মহত্যার নকল সাজিয়ে তারা সবাই বাড়ি থেকে পালিয়েছে।

নিহত আরিফা আকতার উপজেলার আওয়ালগাড়ী মাঠপাড়া গ্রামের সুমন হোসেনের স্ত্রী। সুমন হোসেন একজন গ্রীল মিস্ত্রী। তাদের রাইসা জান্নাত নামে দুই বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। ঘটনার পর মেয়েটির খোঁজও পাচ্ছে তার নানা আবুল হোসেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিন বছর আগে আরিফা সুমন হোসেনের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন। প্রায় এক বছর ধরে দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী আরিফাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে প্রতিবেশীরা জানান, আরিফা মারা গেছেন। পরে তার বাবা ও ভাই মরদেহটি বাড়ির টিউবওয়েলের পড়ে থাকতে দেখেন। তখন তার স্বামীসহ বাড়ির কেউ সেখানে ছিলেন না।

নিহত আরিফার বাবা আবুল হোসেন বলেন, সকালে আমার মেয়ে ফোন করে পাঁচশ টাকা ধার চেয়েছিল। বিকেলে আমরা খবর পাই যে আমার মেয়ে বাড়ির টিউবওয়েল পাড়ে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবাই পালিয়ে গেছে এবং বলছে আত্মহত্যা করেছে। আমি নিশ্চিত, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি; তাকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করেছে।

আরিফার স্বামী সুমন হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমার স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আমরা কেউ তাঁকে হত্যা করিনি। ঘটনার পর আমরা বাড়ির বাইরে রয়েছি।

সুরতহাল প্রস্তুতকারী থানার এসআই সাদমান হোসেন বলেন, নিহতের গলায় ফাঁস ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা ‘রূপালী বাংলাদেশ’কে জানান, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আপাতত একটি ইউডি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যা প্রমাণিত হলে যথাযথ হত্যা মামলা নেওয়া হবে।