ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

হঠাৎ বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আলু খেত, বিপাকে কৃষক

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

জয়পুরহাটের কালাইয়ে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ সকালের হঠাৎ এক ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে আলু উত্তোলনের শেষ মুহূর্তে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে আলু, গমসহ অন্যান্য ফসল। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সরকারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এমন পরিস্থিতিতে সরকার পাশে না দাঁড়ালে ভবিষ্যতে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদন থেকে সরে আসতে বাধ্য হতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে দেখা গেছে, ফসলি জমিতে পানি জমে আছে। অনেক জায়গায় উঁচু এলাকা থেকে নিচু জমিতে পানি নেমে আসছে। এতে জমিতে রাখা আলু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে অনেক কৃষক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সকাল থেকে শ্যালোমেশিন বসিয়ে জমে থাকা পানি সেচ দিয়ে নামানোর চেষ্টা করছেন। তবে তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে আলুসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যেসব প্রাকৃতিক পথ দিয়ে পানি চলাচল করত সেগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জমিতে পানি আটকে যাচ্ছে। এদিকে সকাল থেকেই স্থানীয় কৃষি অফিস কৃষকদের পানি নিষ্কাশন ও ফসল রক্ষায় বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে।

আঁওড়া গ্রামের কৃষক লাবু মিয়া বলেন, ‘এই মাঠে দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। আলু তুলে শুকানোর জন্য জমিতেই রেখেছিলাম। আজ সেগুলো বস্তা করে হিমাগারে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সকালের বৃষ্টিতে সব আলু পানির নিচে চলে গেছে। এখন পানি সরালেও আলুগুলোতে পচন ধরার আশঙ্কা আছে।’

উপজেলার সড়াইল গ্রামের কৃষক জাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘কিস্তি তুলে আলু লাগিয়েছিলাম। বাজারে আলুর দাম এমনিতেই কম। তাই হিমাগারে রাখার জন্য মাঠে রেখেছিলাম। কিন্তু আজকের বৃষ্টিতে সব আলু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন কিস্তি শোধ করব কীভাবে বুঝতে পারছি না।’

একই গ্রামের নূর ইসলাম বলেন, ‘গত বছর আলুতে লোকসান হয়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার আবার আলু চাষ করেছি। বাজারে দাম কম থাকায় হিমাগারে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। রোজার মধ্যে দুই-এক দিনের মধ্যে আলু তুলতাম। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।’

উদয়পুর ইউনিয়নের গ্রামতলা গ্রামের কৃষক ইসলাম বলেন, ‘জমি থেকে আলু তোলা শুরু করেছি। আলুগুলো রোদে শুকানোর জন্য জমিতে ফেলে রেখেছি। আজও আলু তোলার কথা ছিল। ধার-দেনা করে অনেক স্বপ্ন নিয়ে আলু লাগিয়েছিলাম। কিন্তু রাতের বৃষ্টিতে সব স্বপ্ন যেন ভেসে গেল। সরকার যদি এমন সময়ে কৃষকদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে ভবিষ্যতে অনেকেই উৎপাদন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে।’

কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, ‘বৃষ্টির কারণে উপজেলার কিছু মাঠে ফসলের জমিতে পানি জমেছে—এটা সত্য। তবে ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি নয়। দ্রুত পানি নিষ্কাশন হলে ফসলের তেমন বড় ক্ষতি হবে না।’