জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে পাঁচ বছরের এক শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সৎ-মায়ের বিরুদ্ধে। স্থানীয় লোকজন পরে ওই নারীকে পিটুনির পর পুলিশে সোপর্দ করে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের গিলাকুড়ি গ্রামে। পুলিশ বলছে, নিহত শিশুটির মাথায় কাটা দাগ ও বুক এবং কপালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শিশুটি নির্যাতনের কারণে মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত ওই শিশু নাম নাঈম হোসেন (০৫), সে ওই গ্রামের আ. জলিলের ছেলে। আটক সৎ-মায়ের নাম জাহানারা বেগম (৩২)। তার আট মাসের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল জলিলের প্রথম স্ত্রীর এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে প্রায় সাত বছর আগে অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপর জলিল পাঁচ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে নাঈম হোসেন ও কন্যা জান্নাতুল খাতুন। তৃতীয় সন্তান প্রসবের সময় তার দ্বিতীয় স্ত্রী মারা যান। তিন বছর আগে আব্দুল জলিল জাহানারা বেগমকে তৃতীয় বিয়ে করেন। জাহানারা বেগমের আট মাসের কাউছার নামে পুত্রসন্তান রয়েছে। রোববার সকালে নাঈম হোসেন বাড়িতে ছিলেন। অভিযোগ উঠে, সৎ-মা তাকে মারধর করেন। পরে নাঈম হোসেনকে বাথরুমে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা সৎ-মাকে আটক করে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির সৎ-মাকে থানায় আসেন।
শিশুটির সৎ-মা জাহানারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আজ সকাল থেকে নাঈম বাড়িতে ছিল। সে কীভাবে মারা গেছে সেটি জানেন না তিনি। এ ঘটনায় লোকজন তাকে অপরাধী ভেবে মারপিট করেছে।
লাশের সুরতহাল প্রস্তুতকারী আক্কেলপুর থানার গণেশ চন্দ্র বলেন, শিশুটির মাথায় কাটা দাগ ও বুক এবং কপালে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে।
আক্কেলপুর থানার পরির্দশক (তদন্ত) মোমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ নিহত শিশুর সৎ-মাকে আটক করেছে। ঘটনাটি নিয়ে থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
-20251130145102.webp)

