সদ্যঘোষিত কমিটিকে অবৈধ, অগণতান্ত্রিক ও অস্বচ্ছ সিদ্ধান্ত আখ্যা দিয়ে সিরাজগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫০ জন নেতা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
পদত্যাগকারী নেতারা বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্বের বৈধ আহ্বায়ক কমিটিকে বিলুপ্ত না করেই একতরফাভাবে পকেট কমিটি ঘোষণা করেছে। নতুন কমিটিতে বিতর্কিত ও সংগঠনের আদর্শবিরোধী ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা বলেন, এই সিদ্ধান্ত নিতে কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সম্পূর্ণ গোপনে নেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের মূলনীতি ও নৈতিকতা পরিপন্থি।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রিফাত রশিদকে দেওয়া একটি পদত্যাগপত্রও উপস্থাপন করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, নতুন কমিটিতে যেসব ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদের কারো বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নারী-সংক্রান্ত অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সংশ্লিষ্টতা এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের সঙ্গে একই কমিটিতে থাকা তাদের নীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থি।
এর আগে শুক্রবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার ২০৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করে। এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান মুনতাছির হাসান মেহেদী, সদস্য সচিব মাসুদ রানা, মুখ্য সংগঠক সালমান জোয়ারদার এবং মুখপাত্র রাজিয়া ভূঁইয়া রাজিতা। তবে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টায় শুরু হয় পদত্যাগের হিড়িক।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতেই নতুন কমিটি থেকে প্রথম দফায় পদত্যাগ করেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইয়াসির আরাফাত ইশান, যুগ্ম আহ্বায়ক আসির ইন্তেসার অয়ন, টিএম মুশফিক সাদ, রাহাত তালুকদার, সাদমান জাহিন, আধাম আদৃত, সংগঠক যুবায়ের আল ইসলাম সেজান, সিনিয়র সহ-মুখপাত্র সাদিয়া আহমেদ সিনহা ও যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আঞ্জারুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগী নেতারা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ৫০ জন পদত্যাগ করেছেন, তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাদের দাবি, অবৈধ কমিটি বাতিল করে পুনরায় আলোচনা সাপেক্ষে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।


