কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দানের গরু নিলামে কিনে এক বছর পার হলেও মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতা মো. জীবন মিয়া (২৮)-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিলাম প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও।
জীবন মিয়া শহরের হারুয়া এলাকার ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুক ও মানুষের কাছে জীবন কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দাবি করলেও পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক জানান, ৫ নং ওয়ার্ডে বিএনপির কমিটি নেই। কেউ যদি পদ ব্যবহার করে, তা অসাংগঠনিক।
পাগলা মসজিদ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত নিলামে দানের একটি গরু ৫৫ হাজার টাকায় কিনে নেন জীবন মিয়া। নিলামের নিয়ম অনুযায়ী ক্রেতাকে তাৎক্ষণিকভাবে মূল্য পরিশোধ করার কথা থাকলেও তিনি কোনো টাকা দেননি। এরপর প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনও অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।
মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুবায়ের আহমেদ বলেন, নিলামের গরুর টাকা আদায়ের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু এখনো টাকা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টিও আমাদের জন্য উদ্বেগের। কিছু বলতে গেলে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়।
এদিকে, নিলাম কার্যক্রমের অনিয়ম অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর পাগলা মসজিদ প্রাঙ্গণে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি খাইরুল আলম ফয়সাল ও গ্লোবাল টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম ভূইয়া পিংকুসহ চার সাংবাদিককে জীবন মিয়ার নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি হামলা করে।
আহত সাংবাদিকদের কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত সাংবাদিক ফয়জুল ইসলাম ভূইয়া পিংকু বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮-১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা জানান, মামলার পর অভিযান চালিয়ে জীবন মিয়া ও মনা নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, পাগলা মসজিদের নিলাম কার্যক্রম ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা অনিয়ম তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


