কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাই শেষে অপহরণে চেষ্টার ঘটনায় ৩ অপহরণকারীকে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৮টায় পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তর পাড়া সরকারি হাজী আসমত কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এদিকে হোসনারা বেগমকে অপহরণের ঘটনায় তার বড় ভাই শামীম দুপুরে ভৈরব থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস।
আটককৃত অপহরণকারীরা হলেন, পৌর শহরের উত্তরপাড়া গাছতলা ঘাট এলাকার শাহিন মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়া (২০), মুজিবুর মিয়ার ছেলে মোকলেছ মিয়া (২৮) ও ইউনুস মিয়ার ছেলে রাতুল মিয়া (২০)।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ৯৯৯ ফোন পেয়ে গাছতলাঘাট এলাকায় গেলে স্থানীয়দের কাছ থেকে ৩ অপহরণকারীকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এসময় ভুক্তভোগী হোসনা বেগম (২২) কে উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
আরও জানা যায়, রাত ২টায় গাছতলা ঘাট এলাকার মোক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকাসহ মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারী চক্র। এ সময় ছিনতাইকারীরা মুক্তার মিয়াকে মারধর করে। পরে মুক্তার মিয়াকে সাথে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে হোসনা বেগমকে অপহরণ করে। হোসনা বেগম মোক্তার মিয়ার মেয়ে পরশমণির বান্ধবী। রাত ২টায় অপহরণের পর ভৈরবপুর উত্তর পাড়া হাজী আসমত কলেজের পিছনে বালুর মাঠে আটকে রাখে। ভোর রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় হোসনাকে উদ্ধার করে তার পরিবার।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মুক্তার মিয়া বলেন, রাত ১টায় জুতার ফ্যাক্টরিতে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরি। রাত ২টায় বাড়ির পাশে একটি হোটেলে খেতে বের হওয়ার পর ৩ ছিনতাইকারী আমাকে ধরে মারধর করে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। আমাকে মারধর করে আমার বাড়িতে নিয়ে আসে। আমার মেয়ের বান্ধবী হোসনা বেগম। তাকে চিনে ছিনতাইকারীরা। হোসনার কাছে টাকা পাওনার কথা বলে মধ্যরাতে হোসনাকে আমার বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। তাৎক্ষণিক বিষয়টি আমি হোসনার পরিবারকে জানায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় হাজী আসমত কলেজের পিছনের এলাকা থেকে হোসনাকে উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হোসনা বলেন, তারা ৩ জন আমার বড় ভাইয়ের বন্ধু ছিল। আমাকে নিয়ে গিয়ে আমার কাছ থেকে একটি মোবাইল ও কিছু নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আসমত কলেজের পিছনে একটি বালুর মাঠে আমাকে বসিয়ে রাখে। এছাড়া আমার কোন ক্ষতি করেনি।
এ বিষয় ভৈরব থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস বলেন, ৯৯৯ খবর পেয়ে সরকারি হাজী আসমত কলেজের পিছনের এলাকা থেকে ৩ অপহরণকারীকে থানায় আনা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে ৩ যুবক হোসনা বেগম নামে এক কিশোরীকে অপহরণ করেছিল।
জানা গেছে, আসামিরা ও ভুক্তভোগীরা একে অপরের পরিচিত। এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হোসনে আরা বেগমের বড় ভাই একটি অপহরণ মামলা দায়ের করলে আটককৃতদের অপরহণ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন