কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে (সদর হাসপাতাল) আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া আয়া ও ওয়ার্ডবয়দের দিয়ে দাপ্তরিক কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে জনবল ব্যবহারে অসামঞ্জস্য তৈরি হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে মানহীন সেবা, চিকিৎসকসংকট ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে দায়িত্বের বাইরে কাজ করানোর বিষয়টি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আয়া পদে খণ্ডকালীন নিয়োগ পান নুসরাত জাহান ও মৌসুমি বেগম। নিয়োগ অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব ছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। তবে বাস্তবে নুসরাত জাহান গাইনি বিভাগে টিকিট বিতরণ এবং মৌসুমি বেগম শিশু বিভাগে তথ্য এন্ট্রির কাজ করছেন।
একইভাবে ওয়ার্ডবয় পদে নিয়োগ পাওয়া শাহরিয়ার ইসলাম সিয়াম ও আবু তালহা হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজে যুক্ত রয়েছেন। তাদের দেখা গেছে হাসপাতালের ২০৭ নম্বর কক্ষে দাপ্তরিক ও কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্ব পালন করতে। অথচ এ ধরনের কাজ করার কথা রাজস্বখাতের কর্মচারীদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আউটসোর্সিং কর্মীরা নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্বে না থেকে বিকল্প কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এতে একদিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে দাপ্তরিক কাঠামোতেও তৈরি হচ্ছে অনিয়ম।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে শাহরিয়ার ইসলাম সিয়াম বলেন, তিনি ব্যস্ত আছেন, পরে কথা বলবেন। আবু তালহা ও নুসরাত জাহানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। মৌসুমি বেগমও প্রশ্ন শোনার পর ফোন কেটে দেন।
তবে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে বদলি দেওয়া হয়েছে। ফলে দক্ষ বিবেচনায় কিছু কর্মীকে দাপ্তরিক কাজে যুক্ত করা হয়েছে, না হলে কাজ থেমে যেত। তিনি দাবি করেন, এতে কাউকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, যে পদে নিয়োগ, সেই পদেই কাজ করতে হবে। এর বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

