১২২ জন চিকিৎসকের চাহিদার বিপরীতে আছে মাত্র ২৩ জন। চরম জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। দারিদ্র্যপীড়িত উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের একমাত্র সদর হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকট এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এবং ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী ভর্তি থাকেন। গ্রীষ্মকালে এই সংখ্যা কখনও ১ হাজার ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু মাত্র ২৩ জন চিকিৎসক দিয়েই চলছে বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রোগীদের।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৭ সালে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও গত ৯ বছরে নতুন করে জনবল নিয়োগ হয়নি। বর্তমানে ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই কার্যক্রম চলছে, যার মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক শূন্যপদ।
২৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য প্রয়োজন ১২২ জন চিকিৎসক। তবে অনুমোদন না থাকায় ১০০ শয্যার জনবল কাঠামোতেই চলছে কার্যক্রম। ১০০ শয্যার জন্য নির্ধারিত ৪৩টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ২৩ জন।
এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্ট ১০ জনের বিপরীতে আছেন ১ জন, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ১২ জনের বিপরীতে ৭ জন, মেডিকেল অফিসার ৮ জনসহ অন্যান্য বিভাগে আরও কিছু চিকিৎসক রয়েছেন। বদলিজনিত কারণে ১৯টি পদ শূন্য রয়েছে।
নার্সিং সেবাতেও রয়েছে ঘাটতি। স্টাফ নার্স ১১টি পদের বিপরীতে আছেন ৮ জন, সিনিয়র স্টাফ নার্স ১৫২ জনের বিপরীতে ১৪৪ জন এবং মিডওয়াইফারি ৬টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১ জন। এছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট ও সেবা তত্ত্বাবধায়ক পদও শূন্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো ও নতুন ভবনে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। পুরোনো ভবনে পুরুষ সার্জারি ও গাইনি ওয়ার্ডের অবস্থা নাজুক। রোগীদের অভিযোগ- পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও সন্তোষজনক নয়।
পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী মাইদুল ইসলাম জানান, দিনে মাত্র একবার চিকিৎসক আসেন এবং প্রয়োজনীয় সেবাও পাওয়া যায় না। একই ওয়ার্ডের আরেক রোগী আব্দুল আজিজ নার্সদের সেবায় অবহেলার অভিযোগ করেন।
নতুন ভবনের ওয়ার্ডগুলো তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার থাকলেও সিঁড়ি, বাথরুম ও কেবিনের অবস্থা নাজুক বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।
কেবিনে ভর্তি এক রোগীর স্বজন শরীফা বেগম বলেন, বাথরুম ব্যবহারের অনুপযোগী হলেও বারবার অভিযোগ করে কোনো সমাধান মেলেনি।
বহির্বিভাগে রোগীর চাপ আরও বেশি। টিকিট কাটতেই ৩০ মিনিট সময় লাগছে বলে জানান রোগী বক্কর। ৪০ কিলোমিটার দূর থেকে আসা এক রোগীর স্বজন আসমা খাতুন জানান, দীর্ঘ লাইনের কারণে চিকিৎসা নিতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।
হাসপাতালের ইকোকার্ডিওগ্রাম মেশিনটি প্রায় এক বছর ধরে বিকল থাকায় হৃদরোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে রোগীদের অতিরিক্ত ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ গুনতে হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেন, জনবল সংকট থাকলেও সীমিত জনবল দিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ ও অতিরিক্ত চিকিৎসক প্রয়োজন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নূর নেওয়াজ আহমেদ জানান, জনবল সংকট নিরসনে একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


