কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। অবশেষে ঘটনার ৭৮ ঘণ্টা পর দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১২ নারী, শিশু ও পুরুষকে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলারসংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই ১২ জনকে প্রত্যাহার করে নেয় বিএসএফ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিজিবি।
পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে ৪৭ বিজিবির সহকারী পরিচালক নুরুল হুদার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এবং বিএসএফের পক্ষে রানীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনীল কুমার যাদবের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১২ জুন) ভোরে বিএসএফ অবৈধভাবে চার শিশু, চার নারী ও চার পুরুষসহ মোট ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা নিকটস্থ প্রাগপুর বিজিবি ক্যাম্পে খবর দেন। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই ১২ জনকে সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলারসংলগ্ন শূন্যরেখায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পরদিন শনিবার সকাল ১০টায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে টানা ৭৮ ঘণ্টা মানবেতর অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে সময় কাটাতে হয় ওই ১২ জনকে। বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পায়।
সোমবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার পতাকা বৈঠকে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিএসএফ তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গাড়িযোগে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকর্তাদের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শূন্যরেখায় অবস্থানরত ১২ জনকে বিএসএফ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত শুক্রবার বিএসএফ তাদের পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না। বিজিবির কঠোর অবস্থানের পরই বিএসএফ নতুন করে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে নারী-শিশুসহ ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তারা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়রা তা প্রতিহত করে। এরপর থেকে তারা ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিলেন।

