বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে গাজীপুর জেলা। দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এ জেলায় বর্তমানে মোট ৩ লাখ ৯৪ হাজার অর্থনৈতিক ইউনিট এবং ২৫ লাখ ৩০ হাজার কর্মরত জনবল রয়েছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গাজীপুর একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-ন্যাশনাল রিপোর্ট’ বিষয়ক সেমিনারে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) এবং বিপুল কর্মসংস্থানের কারণে গাজীপুর দেশের শিল্প অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) তানিয়া তাবাসসুম এবং জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপ-পরিচালক মাহনুমা খানমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সেমিনারে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র গাজীপুর। এখানে গড়ে ওঠা তৈরি পোশাক শিল্প, ওষুধ শিল্প, প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিক্স, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্প খাত লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের বিস্তারও জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, অর্থনৈতিক শুমারির পরিধি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। শুধু বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান নয়, পাড়া-মহল্লার ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট দোকানগুলোকেও শুমারির আওতায় আনা জরুরি। কারণ এসব ক্ষুদ্র উদ্যোগও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শুমারি ও বিভিন্ন জরিপ কার্যক্রমে জটিল ও দুর্বোধ্য পরিভাষা পরিহার করা উচিত। জনগণের কাছে সহজে বোধগম্য এমন শব্দ ও ভাষা ব্যবহার করা হলে তারা শুমারির গুরুত্ব আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন এবং তথ্য প্রদানেও আগ্রহী হবেন।
বক্তারা বলেন, নির্ভুল ও হালনাগাদ তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক শুমারির গুরুত্ব অপরিসীম। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং শিল্প খাতের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে এ ধরনের শুমারি কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, শিল্পের আধিক্য, শক্তিশালী এসএমই খাত এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় গাজীপুর বর্তমানে বাংলাদেশের শিল্প অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে গাজীপুরের অবদান আগামী দিনগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

