ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

রাশিয়ায় একের পর এক মুসলিম নেতা গ্রেপ্তার, উঠছে নানা প্রশ্ন

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ায় একের পর এক মুসলিম নেতা গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, আইনগত জটিলতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এর মাধ্যমে মুসলিম ধর্মীয় নেতৃত্বের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে সরকার।

সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ায় বেশ কয়েকজন মুসলিম নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও রুশ সরকারি কর্তৃপক্ষ বলছে, দুর্নীতি, আইন লঙ্ঘন, চরমপন্থা এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এসব গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী আটজন মুসলিম নেতাকে আটক করে। পরে তাদের মধ্যে একজনকে মুক্তি দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কারেলিয়ার প্রভাবশালী মুসলিম নেতা ও ইসলামি পণ্ডিত উইসাম বার্দভিল। শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

উইসাম বার্দভিলকে গ্রেপ্তারের পর তার সহকারী আখমাদ তাঙ্গিয়েভ-কেও আটক করে রুশ নিরাপত্তা বাহিনী। এছাড়া গত ১৯ মে ঘুষ দাবি করার অভিযোগে রয়াল আসেনভ-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মর্দোভিয়া প্রজাতন্ত্রের একজন বিশিষ্ট মুসলিম নেতা হিসেবে পরিচিত।

এসব প্রভাবশালী মুসলিম নেতা ছাড়াও আরও কয়েকজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রাশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক এই অভিযানে নানা প্রশ্ন উঠেছে। গ্রেপ্তার হওয়া মুসলিম নেতাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর যথার্থতা নিয়েও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। যদিও রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এসব পদক্ষেপের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘন, দুর্নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই চরমপন্থী ইসলামি সংগঠনগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে এ ধরনের সংগঠন বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণকে সরকার যৌক্তিক বলে মনে করে। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ধর্মীয় নেতৃত্বের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।

এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ায় মুসলিম নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান ভবিষ্যতে দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আগ্রহ ও আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।