লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার চররমিজ ইউনিয়নের চররমিজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতদের মধ্যে নারী-পুরুষের পাশাপাশি কয়েকজন শিশুও রয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চররমিজ গ্রামের কাদির বক্স দালাল বাড়ির মোতালেব ও কাজল মিয়ার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বাড়ির একটি যৌথ পুকুর থেকে মাছ ধরা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় দুটি বসতঘর, দুটি রান্নাঘর ও একটি গোয়ালঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশিশ মজুমদার বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তিনি নিজেও ঘটনাস্থলে যান। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনার তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

