ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

লক্ষ্মীপুর-৩ আসন

বিএনপির ঘাঁটিতে জিততে মরিয়া জামায়াত

জামাল উদ্দিন বাবলু, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. রেজাউল করিম। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

১৯৯১ সাল থেকে লক্ষ্মীপুরকে বিএনপির ঘাঁটি বলা হতো। এ ঘাঁটির মাঝে চারদলীয় জোটের আড়ালে জামায়াতে ইসলামী থাকলেও ততটা দাপুটে ছিল না এতদিন। তাদের সাংগঠনিক শক্তিও লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। গত ৫ আগস্টের পর অবিস্মরণীয় উত্থান ঘটেছে দলটির। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত এখন বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে। 

নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের ফসল ঘরে তুলতে তুমুল ব্যস্ত এ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. রেজাউল করিম। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই প্রচারে সন্ত্রাস ও মাদক সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতিমুখর। 

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা কমিটির আহ্বায়ক। রেজাউল করিম জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর (উত্তর) সেক্রেটারি। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত এ্যানি ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। রেজাউল ২০০৯ ও ২০১০ সালে শিবিরের সভাপতি ছিলেন। তারা জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতির পরিচিত মুখ। 

এদিকে, আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া এ নির্বাচনে প্রচারের শেষ সময়ে শীর্ষ দুই দলের প্রার্থীরা গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন। তারা ভোটারদের নানামুখী সমস্যার কথা শুনছেন। প্রার্থীদের স্ত্রী-সন্তানরাও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, ভোট প্রার্থনা করছেন। 

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতের পর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী এলাকাছাড়া হয়েছে। কর্মী-সমর্থকরা যারা এলাকায় আছেন, তারাও নিষ্ক্রিয়। নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের ভোটারদের কদর বেড়েছে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের কাছে। 

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, এ আসনে ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী ত্র্যানি (বিএনপি), রেজাউল করিম (জামায়াত), মো. ইব্রাহিম (ইসলামী আন্দোলন), এ কে এম মহি উদ্দিন (জাপা), মো. শামছুদ্দিন (এলডিপি) ও সেলিম মাহমুদ (এনপিপি)। এখানে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭২ জন ভোটার রয়েছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সালে বিনা ভোটে শেখ মুজিবুর রহমানের সংসদের সদস্য হন শাহজাহান কামাল (আওয়ামী লীগ), ১৯৭৯ সালে মাস্টার সফিক উল্যা (জামায়াত), ১৯৮৬ সালে মোহম্মদ উল্যা (জাপা), ১৯৮৮ সালে আবদুস সাত্তার মাস্টার (জাসদ), ১৯৯১ সালে খায়রুল এনাম (বিএনপি), ১৯৯৬ সালে নুরুল আমিন ভূঁইয়া (বিএনপি) ও খায়রুল এনাম (বিএনপি), ২০০১ ও ২০০৮ সালে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী ত্র্যানি (বিএনপি), ২০১৪ ও ২০১৮ সালে এ কে এম শাহজাহান কামাল (আওয়ামী লীগ)। 

এর মধ্যে ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শাহজাহান কামালের মৃত্যু হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করলে উপনির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও পিংকু নির্বাচিত হন। 

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের ছাত্রী মেহেনাজ সুলতানা বলেন, যেই ক্ষমতায় আসে, আমাদের সমস্যা নেই। কিন্তু আমরা চাই, সন্ত্রাস স্থায়ীভাবে রোধ হোক। আমরা শান্তি চাই, খুনখারাপি না। 

অটোরিকশাচালক ফারুক হোসেন বলেন, দুইবেলা খেয়ে আমরা বেঁচে থাকতে চাই। দেশ ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকব। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ আসনে সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূলত ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী। সমানতালে তারা গণসংযোগ, পথসভা করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তারা প্রচার চালাচ্ছেন। 

জামায়াত নেতা ড. রেজাউল করিম বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য প্রশাসনকে জানিয়েছি। অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে আহ্বান জানাচ্ছি। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের নারীদের বাধা ও মারধর করছে। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী। 

বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আমরা শুরু থেকে প্রতিটি গ্রামে যাচ্ছি। ভোটারদের কাছে গিয়ে তাদের সমস্যার কথা শুনছি। এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই কৃষক। তাদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য আমার পরিকল্পনা রয়েছে। আমি এমপি থাকাকালে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। ভোটাররা আমাকে আবারও বিজয়ী করবেন।