ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

খামারে দুর্বৃত্তের আগুনে দগ্ধ জামায়াত কর্মীর মৃত্যু

‎লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরে একটি মৎস্য খামারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকার ৫ দিন পর আব্বাস উদ্দিন (৫৫) নামে এক জামায়াত কর্মী মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এর আগে, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিতু এগ্রো মৎস্য খামারে অগ্নিকাণ্ডে তিনি দগ্ধ হন। পরদিন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নিহত আব্বাস উদ্দিন চররমনী মোহন এলাকার মৃত হোসেনের ছেলে ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সদস্য এবং জিতু এগ্রো মৎস্য খামারের মালিক।

আব্বাসের বড় ছেলে এলাহি প্রিন্স জানান, তার মা ও বাবা খামারেই থাকতেন। তার মা সুলতানা রাজিয়া লাকি লক্ষ্মীপুর পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি।

ভোটের আগে রাতে দুর্বৃত্তরা বাইরে থেকে খামার ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘর পুড়ে যায়। পরিবারের অন সদস্যরা দ্রুত বের হয়ে যেতে পারলেও আব্বাস পারেননি। এতে হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে দগ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান পরিবারের লোকজন। রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এলাহি প্রিন্স বলেন, আমার বাবা মারা যাননি, শহীদ হয়েছেন। তিনি জামায়াত করেন এটাই তার অপরাধ ছিল। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান বলেন, ঘটনাটি ভোটের আগের দিন ঘটেছে। যিনি মারা গেছেন তিনি প্রিন্সের বাবা। কয়েক মাস থেকে প্রিন্সও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে দাঁড়িপাল্লা সমর্থনে আমাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে ভোটের জন্য কাজ করেছেন। প্রিন্সের কাছ থেকেই জানতে পেরেছি, তার বাবা আব্বাস উদ্দিন দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে ভোটের জন্য কাজ করেছেন। 

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।