বিএনপির সহ-শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন, রাজনীতিবিদ এত গরিব হলে লাভ হবে না। কেন গরিব?—চিন্তায় গরিব, হৃদয়ে গরিব। আমার নেতা মরহুম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছিলেন, ‘রাজনীতিবিদের কলিজা থাকতে হবে সিনার বাইরে আড়াই ইঞ্চি।’ আমরা যদি এত ছোট হয়ে রাজনীতি করি, তাহলে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাব আয়োজিত সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লক্ষ্মীপুর টাউন হল ও পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।
এমপি নিজান বলেন, ‘কালো-সাদা দ্বন্দ্ব, হিন্দু-মুসলমানের দ্বন্দ্ব—এগুলো যুগ যুগ ধরে স্বার্থের জন্য রাজনীতিবিদরা তৈরি করেছেন। যত নতুন দিন আসছে, তত জটিলতা বাড়ছে। কারণ আমাদের নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে। যিনি যত বড় ধার্মিক, তিনি তত বড় সৎ—কারণ কোনো ধর্মেই অসত্যের কথা নেই। অসুরকে নিপাত করার জন্যই কালি, দুর্গা, প্রফেট কিংবা আমাদের অলি-আউলিয়ারা—সকলেই সৎ ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভোটের দিন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব, ভোটের পরদিন থেকে একে অপরকে বন্ধু হিসেবে নিতে পারি। বিরোধী দলই সরকারকে সঠিক রাখতে পারে। আপনারা যদি ইতিবাচক রাজনীতি করেন, সরকারও ইতিবাচক রাজনীতি করতে বাধ্য হবে। একদিনে আমাদের মানসিকতা বদলে যাবে—এটা ভুল কথা। ভোটে আমরা অনেক সময় টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কারণ আমরা নৈতিকভাবে সঠিক ছিলাম না। পরিবর্তন আসবে—আমরা সেই পরিবর্তন চাই।’
লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আ হ ম মোশতাকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম পাবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, জেলা জামায়াতের আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ননী গোপাল ঘোষ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জেড এম ফারুকী এবং লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাইন উদ্দিন পাঠান প্রমুখ।


