লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির ঘটনায় আটক চারজনকে ছিনিয়ে নেওয়া নিয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক উপপরিদর্শকসহ চার পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১০টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা লক্ষ্মীপুর–রায়পুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এ সময় সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এতে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হায়দর আলী বেপারী বাড়ির শাহ আলম ইফতার করার সময় রাস্তার পাশে রাখা তার অটোরিকশাটি চুরি হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় চার সন্দেহভাজনকে আটক করা হয় এবং অটোরিকশাটি উদ্ধার করা গেলেও ব্যাটারি পাওয়া যায়নি। ব্যাটারি উদ্ধারের দাবিতে আটকদের একটি বাড়িতে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাত সাড়ে আটটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে রায়পুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ আটকদের থানায় নিতে চাইলে স্থানীয়দের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এসআই মোতালেব, কনস্টেবল শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদ আহত হন। তাঁদের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রিকশাচালক শাহ আলম দাবি করেন, ব্যাটারি উদ্ধারের দাবিতে আটকদের আটক রাখা হয়েছিল। পুলিশ জোর করে নিয়ে যেতে চাইলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, অভিযুক্তদের থানায় আনার সময় ২০–৩০ জন ব্যক্তি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে পুলিশের চার সদস্য আহত হন। আটক চারজন বর্তমানে থানা হেফাজতে আছেন। রিকশা চুরির ঘটনায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন।
পরে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

